2021 SSC 3rd Week Geography and Environment Assignment Sample Solution / Answer | ২০২১ সালের এসএসসি ৩য় সপ্তাহের ভূগোল ও পরিবেশ এসাইনমেন্ট নমুনা সমাধান /উত্তর




তারিখঃ ২৩ জুলাই ২০২১
বরাবর ,
প্রধান শিক্ষক / সুপার / অধ্যক্ষ ,
গাংনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়
মোল্লাহাট , বাগেরহাট ।
বিষয়ঃ সূর্যকে পরিক্রমণকালে পৃথিবীর চারটি অবস্থায় বাংলাদেশে বিরাজমান ঋতু পরিবর্তন

জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে ,আপনার আদেশ নং মিস.বা.উ.বি /৩৭.০২.০০০০.১০৬.২৭.০০১.২০-২৯৫ তারিখ ১৮/০৭/২০২১ অনুসারে উপরোক্ত বিষয়ের উপর আমার স্বব্যখ্যাত প্রতিবেদনটি নিম্নে পেশ করলাম ।


ঋতু পরিবর্তন ( change of season )
তাপমাত্রার পার্থক্য অনুসারে সারাবছরকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয় । এ প্রতিটি ভাগকে এক একটি ঋতু বলে । তাপমাত্রার পার্থক্য অনুসারে সারাবছরকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে । এগুলাে হলাে- গ্রীষ্মকাল , শরৎকাল , শীতকাল ও বসন্তকাল । আমরা জানি , সমগ্র পৃথিবীকে দুটো গােলার্ধে ভাগ করা হয়েছে । নিরক্ষরেখার উপরের দিকের অংশকে উত্তর গােলার্ধ এবং নিচের দিকের অংশকে দক্ষিণ গােলার্ধ ধরা হয় । উত্তর গােলার্ধে যখন গ্রীষ্মকাল দক্ষিণ গােলার্ধে তখন শীতকাল ।

এরকম ঋতু পরিবর্তনের কারণসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলােঃ
( ১ ) পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে দিবারাত্রির তারতম্যের জন্য উত্তাপের হ্রাস - বৃদ্ধি পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে সূর্য পৃথিবীর যে গােলার্ধের নিকট অবস্থান করে তখন সেই গােলার্ধে দিন বড় এবং রাত ছােট । তার বিপরীত গােলার্ধে রাত বড় , দিন ছােট । পৃথিবী দিনের বেলায় তাপ গ্রহণ করে ফলে ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয় এবং রাতের বেলায় বিকিরণ করে শীতল হয় । তখন একটি স্থানে বড় দিনে ভূপৃষ্ঠ যে তাপ গ্রহণ করে ছােট রাতে সে তাপ পুরােটা বিকিরণ করতে পারে না । ঐ স্থানে সঞ্চিত তাপের কারণে আবহাওয়া উষ্ণ হয় এবং তাতে গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া পরিলক্ষিত হয় । বিপরীত গােলার্ধে রাত বড় এবং দিন ছােট হওয়াতে দিনের বেলায় যে তাপ গ্রহণ করে রাতের বেলায় সব তাপ বিকিরণ করে ঠান্ডা অনুভূত হয় তখন শীতকাল ।

( ২ ) পৃথিবীর গােলাকার আকৃতি : পৃথিবী গােল , তাই পৃথিবীর কোথাও সূর্যরশ্মি লম্বভাবে
পড়ে আবার কোথাও তির্যকভাবে পড়ে । ফলে তাপমাত্রারভপার্থক্য হয় এবং ঋতু পরিবর্তিত হয় ।
৩ ) পৃথিবীর কক্ষপথের কৌণিক অবস্থানঃ সূর্যকে পরিক্রমণের সময় নিজ কক্ষতলের সঙ্গে পৃথিবীর মেরুরেখা সমকোণে না থেকে ৬৬.৫ ° কোণে হেলে একই দিকে অবস্থান করে । এতে বছরে একবার পৃথিবীর উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু সূর্যের নিকটবর্তী হয় । যে গােলার্ধ যখন সূর্যের দিকে ঝুঁকে থাকে সে গােলার্ধে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় । তার তাপমাত্রা তখন বেশি হয় এবং দূরে গেলে তাপমাত্রা কম হয় , ফলে ঋতু পরিবর্তন ঘটে।

৪) বার্ষিক গতির কারণে : পৃথিবীর বার্ষিক গতির জন্য সূর্যকিরণ বিভিন্ন স্থানে কমবেশি পড়ার কারণে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার পার্থক্য ঘটছে । ফলে জলবায়ুর বিভিন্নতা হয় । একে ঋতু পরিবর্তন বলে ।




ঋতু পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় পৃথিবীর চারটি অবস্থার চিত্র সহকারে নিম্নে উপস্থাপন করা হলােঃ
আমরা জানি , পৃথিবীতে চারটি ঋতু - গ্রীষ্মকাল , শরৎকাল , শীতকাল ও বসন্তকাল । আমরা এখন দেখব ঋতু কীভাবে পরিবর্তিত হয় । সূর্যকে পরিক্রমণকালে পৃথিবীর চারটি অবস্থা থেকে ঋতু পরিবর্তনের ব্যাখ্যা পাওয়া যায় ।

উত্তর গােলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধে শীতকাল :
২১ এ মার্চের পর থেকে পৃথিবী তার নিজ কক্ষপথে এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মেরু ক্রমশ সূর্যের দিকে হেলতে থাকে । এর সঙ্গে সঙ্গে যত দিন যায় তত উত্তর মেরুতে আলােকিত অংশ বাড়তে থাকে । এভাবে ২১ এ জুনে গিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে । ফলে ২১ এ জুন উত্তর গােলার্ধে বড় দিন এবং ছােট রাত হয় । ঐ দিনই সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ এবং তার পরের দিন থেকে পুনরায় সূর্য দক্ষিণ দিকে আসতে থাকে । দিন বড় হওয়ার কারণে উত্তর গােলার্ধে ২১ এ জুনের দেড় মাস পূর্ব থেকেই গ্রীষ্মকাল শুরু হয় এবং পরের দেড় মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল স্থায়ী হয় । এই সময়ে দক্ষিণ গােলার্ধে ঠিক বিপরীত অবস্থা দেখা
যায় অর্থাৎ শীতকাল অনুভূত হয় । এ সময় সূর্য হেলে থাকার কারণে এ গােলার্ধে সূর্য কম সময় ধরে কিরণ দেয় । ফলে দিন ছােট এবং রাত বড় হয় । দিনে ভূপৃষ্ঠ যতটুকু উত্তপ্ত হয় , রাতে তাপ বিকিরণের ফলে তা ঠান্ডা হয়ে যায় । এখানে তখন শীতের আবহাওয়া বিরাজ করে । দক্ষিণ গােলার্ধে এনসময়কে শীতকাল বলে ( চিত্র ১ ) ।

উত্তর গােলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধে বসন্তকাল :
২১ জুন থেকে দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে হেলতে থাকে । উত্তর গােলার্ধের অংশগুলাে কম কিরণ পেতে থাকে এবং দক্ষিণ গােলার্ধের অংশগুলাে বেশি সূর্যকিরণ পেতে থাকে । এভাবে ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় । তাই এ সময় পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান হয় । দিনের বেলায় যে তাপ আসে রাত সমান হওয়ায় একই পরিমাণ তাপ বিকিরিত হওয়ার সুযােগ পায় । এই ফলে আবহাওয়াতে ঠান্ডা গরমের পরিমাণ সমান থাকে । এই সময় উত্তর গােলার্ধে শরৎকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে । ২৩ এ সেপ্টেম্বরের দেড় মাস আগে থেকেই উত্তর গােলার্ধে শরৎকালেরবসূচনা হয় এবং দেড় মাস পর পর্যন্ত এই শরৎকাল ।

উত্তর গােলার্ধে শীতকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধে গ্রীষ্মকাল : ২৩ সেপ্টেম্বরের পর দক্ষিণ গােলার্ধ ক্রমশ সূর্যের দিকে
হেলতে থাকে । এই সময় দক্ষিণ গােলার্ধ সূর্যের কাছে আসতে থাকে । উত্তর গােলার্ধ দূরে সরতে থাকে । ফলে
দক্ষিণ গােলার্ধে সূর্য লম্বভাবে এবং উত্তর গােলার্ধে কোণ করে কিরণ দিতে থাকে । এতে উত্তর গােলার্ধে দিন ছােট ও দক্ষিণ গােলার্ধে দিন বড় এবং রাত ছােট হতে থাকে । এর মধ্যে ২২ এ ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় । সেই দিন উত্তর গােলার্ধে ছােট দিন ও বড় রাত হওয়াতে শীতকাল । ঐ দিনই সূর্যের দক্ষিণায়নের শেষ এবং তার পরের দিন থেকে পুনরায় সূর্য উত্তর দিকে আসতে থাকে । ২২ এ
ডিসেম্বরের দেড় মাস পূর্বেই উত্তর গােলার্ধে শীতকাল শুরু হয় এবং পরের দেড় মাস পর্যন্ত বিরাজ করে । এই সময়টাতে দক্ষিণ গােলার্ধে গ্রীষ্মকাল ।

উত্তর গােলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধে শরৎকাল :



পৃথিবী তার কক্ষপথে চলতে চলতে ২২ এ ডিসেম্বরের পর থেকে ২১ এ মার্চ পর্যন্ত এমন স্থানে ফিরে আসে যখন সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে । ফলে ২১ এ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয় । দিনের বেলায় সূর্যকিরণের কারণে ভূপৃষ্ঠের বায়ুস্তর গরম হয় এবং রাত্রিবেলায় বিকিরিত হয়ে ঠান্ডা হয় । এই সময় উত্তর গােলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গােলার্ধে শরৎকাল । ২১ এ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয় এবং ঐ দিনটিকে বাসন্ত বিষুব বা মহাবিষুব বলে ( চিত্র ২ )

সূর্যকে পরিক্রমণকালে পৃথিবীর চারটি অবস্থায় বাংলাদেশে বিরাজমান ঋতু পরিবর্তনের ব্যাখ্যাঃ

বাংলাদেশ পৃথিবীর উত্তর গােলার্ধে অবস্থিত । বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালঃ ২১ এ মার্চের পর থেকে পৃথিবী তার নিজ কক্ষপথে এগিয়ে রঙ্গে উত্তর রূ কমর্যের দিকে থাকে । এর সঙ্গে সঙ্গে যত দিন যায় তত উত্তর মেরুতে আলােকিত অংশ বাড়তে থাকে । এভাবে ২১ এ জুনে গিয়ে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে । ফলে ২১ এ জুন উত্তর গােলার্ধে বড় দিন এবং ছােট রাত হয় । ঐ দিনই সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ এবং তার পরের দিন থেকে পুনরায় সূর্য দক্ষিণ দিকে আসতে থাকে । দিন বড় হওয়ার কারণে উত্তর গােলার্ধে তথা বাংলাদেশে ২১ এ জুনের দেড় মাস পূর্ব থেকেই গ্রীষ্মকাল শুরু হয় এবং পরের দেড় মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল স্থায়ী হয় ।

বাংলাদেশে শরৎকাল : ২১ এ জুন থেকে দক্ষিণ মেরু সূর্যের দিকে হেলতে থাকে । উত্তর গােলার্ধের অংশগুলাে কম কিরণ পেতে থাকে এবং দক্ষিণ গােলার্ধের অংশগুলাে বেশি সূর্যকিরণ পেতে থাকে । এভাবে ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় । তাই এ সময় পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাত্রি সমান হয় । ২৩ এ সেপ্টেম্বরের দেড় মাস আগে থেকেই উত্তর গােলার্ধে অর্থাৎ বাংলাদেশে শরৎকালের সূচনা হয় এবং দেড় মাস পর পর্যন্তনএই শরৎকাল স্থায়ী থাকে ।

বাংলাদেশে শীতকালঃ- ২৩ সেপ্টেম্বরের পর দক্ষিণ গােলার্ধ ক্রমশ সূর্যের দিকে হেলতে * থাকে । এই সময়
দক্ষিণ গােলার্ধ সূর্যের কাছে আসতে থাকে । উত্তর গােলার্ধ দূরে সরতে থাকে । ফলে দক্ষিণ গােলার্ধে সূর্য
লম্বভাবে এবং উত্তর গােলার্ধে কোণ করে কিরণ দিতে থাকে । এতে উত্তর গােলার্ধে দিন ছােট ও দক্ষিণ
গােলার্ধে দিন বড় এবং রাত ছােট হতে থাকে । এর মধ্যে ২২ এ ডিসেম্বর সূর্য মকরক্রান্তির উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় । সেই দিন উত্তর গােলার্ধে ছােট দিন ও বড় রাত হওয়াতে শীতকাল । ঐ দিনই সূর্যের দক্ষিণায়নের শেষ এবং তার পরের দিন থেকে পুনরায় সূর্য উত্তর দিকে আসতে থাকে । ২২ এ ডিসেম্বরের দেড় মাস পূর্বেই উত্তর গােলার্ধে শীতকাল শুরু হয় এবং পরের পরের দেড় মাস পর্যন্ত বিরাজ করে ।নযেহেতু বাংলাদেশ পৃথিবীর উত্তর গােলার্ধে অবস্থিত তাই 22 এ ডিসেম্বরের দেড় মাস পূর্ব এবং পর পর্যন্তনবাংলাদেশে শীতকাল থাকে ।

বাংলাদেশে বসন্তকালঃ পৃথিবী তার কক্ষপথে চলতে চলতে ২২ এ ডিসেম্বরের পর থেকে ২১ এ মার্চ পর্যন্ত এমন স্থানে ফিরে আসে যখন সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে । ফলে ২১ এ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্রনদিনরাত্রি সমান হয় । দিনের বেলায় সূর্যকিরণের কারণে ভূপৃষ্ঠের বায়ুস্তর গরম হয় এবং রাত্রিবেলায় বিকিরিত হয়ে ঠান্ডা হয় । এই সময় উত্তর গােলার্ধে ( বাংলাদেশে ) বসন্তকাল হয় ।

প্রতিবেদকের নাম ও ঠিকানা
দশম শ্রেণি , বিভাগঃ মানবিক
রোল নংঃ ০১
গাংনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়
মোল্লাহাট , বাগেরহাট ।
প্রতিবেদন তৈরির তারিখঃ ২৩/০৭/২০২১
প্রতিবেদন তৈরির সময়ঃ রাত ১০.০০ মিনিট

Leave a Comment