অ্যাসাইনমেন্ট: প্রাচীন বাংলার মানচিত্রে জনপদসমূহ চিন্হিত করে সেখানকার ভৌগলিক অবস্থার প্রেক্ষিতে জনপদ গড়ে উঠার কারণ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন লিখ। (১৫০-২০০ শব্দ)
প্রাচীন বাংলার মানচিত্রে জনপদসমূহ চিন্হিত করে সেখানকার ভৌগলিক অবস্থার প্রেক্ষিতে জনপদ গড়ে উঠার কারণ
প্রাচীন বাংলার জনবসতিপূর্ণ ও কৃষিনির্ভর এই ছোট ছোট অঞ্চলগুলোকেই বলা হয় জনপদ। প্রাচীন যুগে বাংলা বর্তমান বাংলাদেশের মতো একক ও অখণ্ড ছিল না। প্রাচীন বাংলার জনপদ থেকে আমরা তখনকার বাংলার ভৌগোলিক অবয়ব, সীমারেখা, রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা লাভ করতে পারি।
নিচে প্রাচীন বাংলার জনপদের একটি মানচিত্র অংকন করা হলো:
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য জনপদ হলো:
গৌড়, বঙ্গ, পুণ্ড্র, হরিকেল, সমতট, বরেন্দ্র, তাম্রলিপ্ত, চন্দ্রদ্বীপ ইত্যাদি।
কোন দেশের মানুষের জীবনাচরণ ও ইতিহাসের ওপর সে দেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের প্রভাব অপরিসীম। বাংলাদেশের বিশাল সমভূমি আর প্রচুর নদ-নদী থাকায় এদেশের যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহনের একটি বড় মাধ্যম নদীপথ। বিদেশি আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য নৌযুদ্ধে পারদর্শী হয়ে ওঠে বাংলার সৈন্যরা। এখানকার আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। ভৌগোলিক পরিবেশ দেশবাসীকে কোমল আর শান্ত স্বভাবের করেছে। পাশাপাশি উর্বর ভূমির কারণে কৃষিভিত্তিক সমাজও গড়ে ওঠে। আবার ঋতুবৈচিত্র্যের কারণে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সাথে যুদ্ধ করতে হয় বাংলাদেশের মানুষকে, তাই তারা হয়ে ওঠে সংগ্রামী। শুধু স্বভাব চরিত্র নয়, বাংলার অধিবাসীদের খাদ্য তালিকা, পোশাক, ঘর-বাড়ি সবকিছুই এদের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। বৈচিত্র্যময় এই প্রাকৃতিক অবস্থান প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলার মানুষকে কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। প্রাচীন যুগে বাংলার প্রতিটি শাসক যার যার মতো শাসন করতেন। বাংলার এ অঞ্চলগুলোক তখন সমষ্টিগতভাবে নাম দেয়া হয় ‘জনপদ’।


Leave a Comment