দাখিল পাদার্থবিজ্ঞান ৫ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১|Dakhil Physics 5th Week Assignment Answer 2021



অ্যাসাইনমেন্ট শিরোনাম : নবায়নযােগ্য
শক্তির গল্প।

জলবিদৎ হলাে অন্যতম প্রাচীন শক্তি উৎস বিশ্বজুড়ে বিশেষত প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদৎ উৎপা করতে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রচুর নদী থাৰ বাংলাদেশেও সম্ভাবনাটি কাজে লাগানাে যায়। টি একটি জলবিদযুৎ কেন্দ্র দেখানাে হলাে।
চিত্র: একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র

ক) চিত্রের কোন অবস্থানে জলের অন্যনতম
বিভব শক্তি রয়েছে?
৩০ মিনিটের মধ্যে পানি 5.0 x 10° J শক্তি
হারায় এবং 4.5 x 10 J বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন করে;

খ) শক্তির রূপান্তরকরণের দক্ষতা নির্ণয় কর;

গ) বৈদ্যতিক শক্তি 4.5 x 10 J কে ওয়াট(W
এককের মাধ্যমে প্রকাশ কর;

ঘ) বাংলাদেশের পরিবেশের উপর জলবিদ্যুৎ
কেন্দ্রের প্রভাব বিশ্লেষণ কর;

ঙ) জলবিদ্যৎ কী ধরনের শক্তি? এরূপ অন্যান্য
শক্তির অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত
প্রভ বর্ণনা করে একটি চার্ট তৈরি কর;
শিখনফল/ বিষয়বস্তু:

ক) অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় শক্তির প্রধান উৎসসমূহেরনঅবদান বিশ্লেষণ করতে পারব;

খ) ক্ষমতা ব্যাখ্যা করতে পারব;

গ) কর্মদক্ষতা পরিমাপ করতে পারব;
নির্দেশনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি):
ক) পাঠ্য বইয়ের ১১০-১১২ পৃষ্ঠায়বর্ণিত অংশ অনুসরণ করতে হবে;
খ) পাঠ্য বইয়ের ১১৯-১২০ পৃষ্ঠায়বর্ণিত অংশ অনুসরণ করতে হবে;

এসএসসি পদার্থবিজ্ঞান ৫ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান/উত্তর 2021


ক) চিত্রের কোন অবস্থানে জলের অন্যনতম বিভব শক্তি রয়েছে?
প্রশ্ন-ক এর উত্তর
উত্তরঃ চিত্র মতে সর্বনিম্ন বা ন্যূনতম বিভব
শক্তি রয়েছে টারবাইন হাউসে।
৩০ মিনিটের মধ্যে পানি 5.0 x 109 J শক্তি
হারায় এবং 4.5 x 109 J বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন
করে;

খ) শক্তির রূপান্তরকরণের দক্ষতা নির্ণয় কর;
প্রশ্ন-খ এর উত্তর
দেওয়া আছে, 30 মিনিটে পানির বিভব শক্তি
হ্রাস =5×109 J এবং উৎপন্ন বৈদ্যুতিক শক্তির
পরিমাণ=4.5×109 J
এখানে পানির বিভব শক্তিকে, প্রদত্ত শক্তি
হিসেবে কাজে লাগিয়ে টারবাইন এর মাধ্যমে
বিদ্যুৎ শক্তি তে রূপান্তর করা হয়।
সুতরাং,

অতএব টারবাইন টির কর্মদক্ষতা 90%

গ) বৈদ্যতিক শক্তি 4.5 x 109 J কে ওয়াট (W) এককের মাধ্যমে প্রকাশ কর;
প্রশ্ন-গ এর উত্তর
এখানে 30 মিনিট সময়ে টারবাইন দ্বারা বিদ্যুৎ
শক্তি উৎপন্ন হয় 4.5×109J যেখানে, অতিবাহিত সময়=30 মিনিট=30×60 সেকেন্ড=1800 সেকেন্ড
আমরা জানি, জুল (J) হল শক্তির একক এবং
ওয়াট (W) হল ক্ষমতার একক আবার এক ওয়াট
সমান (W) =1Js-1

সংজ্ঞা মতে, প্রতি একক সময়ে সম্পাদিত কাজ বা রূপান্তরিত শক্তির পরিমাণ-ই হল ক্ষমতা।

ঘ) বাংলাদেশের পরিবেশের উপর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রভাব বিশ্লেষণ কর;
প্রশ্ন-ঘ এর উত্তর
বাংলাদেশ পরিবেশের উপর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রভাব রয়েছে যেখানে ভালো এবং খারাপ উভয় প্রভাব লক্ষণীয় নিচে এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হল-

পরিবেশের উপর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভালো প্রভাব সমূহ:
১) জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস।
২) জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।
৩) জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভূগর্ভস্থ পানি অপচয় না
করেও, ভূমি উপরস্থ পানি দ্বারা বিদ্যুৎ উৎপাদন
করা সম্ভব ।যেখানে পানির অপচয় কম ঘটে।
৪) জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থাপনের ফলে ওই স্থানের পরি পার্শিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিলক্ষিত হয়।
৫) জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ফলে দেশের অর্থনৈতিক যেমন বৈদ্যুতিক উৎপাদন বৃদ্ধি পায় তেমনিভাবে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আশপাশ টুরিস্ট স্পট হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন সামাজিক উন্নয়ন ঘটে।

পরিবেশের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ফলে খারাপ বা বিরূপ প্রভাব:
১) প্রধানত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন একটি ব্যয়বহুল প্রকল্প যা আমাদের মতো উন্নয়নশীল
দেশের জন্য একটু কষ্ট সাধ্য।
২) জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যবহারের জন্য যে পানি
প্রয়োজন তা যদি বৃষ্টিপাত না হয় ,তাহলে কেন্দ্রের ড্যাম অকার্যকর হয়ে যায়। যাতে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
৩) ভূমধ্য টেকনিক প্লেটের উপর জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়ার ফলে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা থাকে।
৪) জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে ধ্বংস হলে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়ে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

অতএব জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে পরিবেশের
উপর যেমন ভাল প্রভাব সমূহ রয়েছে তেমনি পাশাপাশি কিছু খারাপ প্রভাব লক্ষণীয়। তাই
পরিবেশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ
করেন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন অবকাঠামোগত
এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক।

ঙ) জলবিদ্যৎ কী ধরনের শক্তি? এরূপ অন্যান্য শক্তির অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভ বর্ণনা করে একটি চার্ট তৈরি কর;
প্রশ্ন-ঙ এর উত্তর
উত্তরঃ জলবিদ্যুৎ একপ্রকার নবায়নযোগ্য শক্তি। এরূপ আরো অন্যান্য শক্তির মধ্যে রয়েছে সৌরশক্তি, রাসায়নিক শক্তি,তাপ শক্তি, নিউক্লিয়ার শক্তি, বায়ু শক্তি ইত্যাদি। নিচে উক্ত শক্তিসমূহের অর্থনৈতিক সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে চাট করে বর্ণনা করা হলো।

সৌরশক্তি অর্থনৈতিক প্রভাবঃ
অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী। প্যানেল ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির দাম তুলনামূলক একটু বেশি তবে একবার স্থাপন করলে তাও অনেক দিন টেকে।।
সামাজিক প্রভাবঃ সামাজিকভাবে অবকাঠামােগত উন্নয়নে এবং ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বিদ্যুতায়নের জন্য সােলার প্যানেল একটি উপযােগী পদ্ধতি।

পরিবেশগত প্রভাবঃ সােলার প্যানেল বাসর শক্তি প্রতিদিন পরিবেশগতভাবে খুবই কম মাত্রায় দূষণ হয়। কারণ সৌরশক্তি পদ্ধতিতে কার্বন নিঃসরণ হয়না।

রাসায়নিক শক্তি অর্থনৈতিক প্রভাবঃ অর্থনৈতিকভাবে রাসায়নিক শক্তি সাশ্রয়ীএবং ব্যয়বহুল উভয়ই। আধুনিক সময়ে রাসায়নিক শক্তি ব্যবহার করে অর্থনৈতিকভাবে দিন দিন উন্নতি বেড়ে চলছে। যেমন বাসা বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার ও গাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারের
ব্যবহার। উভয়স্থানে। অর্থনৈতিকভাবে মানুষ সাশ্রয় হচ্ছে।

সামাজিক প্রভাবঃ সামাজিক উন্নয়নে
রাসায়নিক শক্তির অবদান অগ্রগণ্য। বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ পুন: ব্যবহারের মাধ্যমে সামাজিক এবং আর্থিকভাবে মানুষ স্বাবলম্বী
হচ্ছে।

পরিবেশগত প্রভাবঃ রাসায়নিক শক্তির পরিবেশগত ব্যাপক বিরূপ প্রভাব রয়েছে। কিছু রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের পরে পরিবেশে নানারকম রােগ এবং ধ্বংস সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে। যেমন তেজস্ক্রিয় রশ্মি মানুষের শরীরে ক্যান্সার এবং জটিল রােগ তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে।

নিউক্লিয় শক্তি অর্থনৈতিক প্রভাবঃ
নিউক্লিয় শক্তি অর্থনৈতিক অবকাঠামাে উন্নয়নের জন্য খুবই প্রয়ােজনীয় এক প্রকার শক্তি। যা অধিক তাপমাত্রা উৎপাদনে সহায়ক।

সামাজিক প্রভাবঃ সামাজিক অবকাঠামাের নিউক্লিয় শক্তির প্রয়ােজনীয়তা রয়েছে। আধুনিক মিল কলকারখানা এবং বড় বড় ফ্যাক্টরিগুলাে পরিচালনার জন্য বেশি পরিমাণে বিদ্যুৎ শক্তি যা নিউক্লিয় শক্তি থেকে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে এতে।
সামাজিকভাবে উন্নতি হচ্ছে।

পরিবেশগত প্রভাবঃ পরিবেশের উপর নিউক্লিয়
শক্তি কিছুটা বিরূপ প্রভাব রয়েছে। নিউক্লিয় শক্তি উৎপাদনে। ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্য সমূহ ব্যবহারের পর সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা না হলে
পরিবেশে তা মিশে জীববৈচিত্র্য ব্যাপক ক্ষতি করে।

তাপশক্তি অর্থনৈতিক প্রভাবঃ তাপ শক্তি এক ধরনের নবায়নযােগ্য শক্তি। যার ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তাপশক্তির প্রয়ােজনীয়তা আছে।
সামাজিক প্রভাবঃ তাপ শক্তি সামাজিকভাবে তেমন কোন। পরিবেশের ক্ষতি করে না। কারণ এটি ব্যবহৃত বর্জ্য সমূহ সহজে নিষ্কাশন যােগ্য। 

পরিবেশগত প্রভাবঃ
পরিবেশের উপর তাপশক্তির মােটামুটি বিরূপ প্রভাব রয়েছে। তাপ শক্তির ফলে যে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে, সেখানে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি। থাকে যা পরিবেশ এর কিছু প্রয়ােজনীয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রাণী দের জন্য হুমকিস্বরূপ।

বায়ুশক্তি অর্থনৈতিক প্রভাবঃ
বায়ুশক্তির অর্থনৈতিক খরচ বেশি। পরিমাণে
কম বিদ্যুৎ উৎপাদনের তুলনায় খরচ হয় বেশি এবং জায়গা প্রয়ােজন বেশি। বর্তমানে সাগর
তীরে বায়ু শক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়ন করছে।

সামাজিক প্রভাবঃ বায়ু শক্তির
সামাজিকভাবে কিছুটা নেতিবাচক দিক রয়েছে। বায়ু শক্তি জনসমাগম এলাকায় উৎপাদনের ক্ষেত্রে জনগণের জন্য সমস্যা হয়ে থাকে যা সামাজিকভাবে নেতিবাচক।

পরিবেশগত প্রভাবঃ বায়ুতে পরিবেশগত কোনাে প্রভাব নেই। কারণ এতে কোন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহৃত হয় না।

Leave a Comment