অ্যাসাইনমেন্ট/ শিরো নাম : নবজাতক কাল থেকে এই পর্যন্ত তুমি বিকাশের যেসব স্তর অতিক্রম করেছো এবং প্রতিটি স্তরের পরিপক্কতা ও শিক্ষন যেভাবে তোমাকে পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে অভিযোজন করে চলতে সহায়তা করছে তা
পাঠ্যপুস্তুক, ইন্টারনেট এবং পরিবারের সহযোগিতায় একটি প্রতিবেদনে উপস্থাপন কর।
শিখনফল/বিষয়বস্তু :
শিশুর বিকাশেরনীতিসমূহ (পরিপক্বতা ও শিক্ষণ অনুযায়ী বিকাশের ফল) বর্ণনা করতে পারবে
শিশুর বিকাশের ধাপসমূহ ব্যাখ্যা করতে পারবে
নির্দেশনা (সংকেত/ ধাপ/ পরিধি):
বয়সসীমাসহ শিশুর বিকাশের বিভিন্ন স্তর
স্তর অনুযায়ী প্রতিকী ছবি সংযুক্তকরণ /ছবি অংকণ প্রতিটি স্তরের বৈশিষ্ট্য সুস্পষ্টকরণ
স্তর অনুযায়ী পরিপক্কতা এবং শিক্ষণের প্রভাব উল্লেখ ।
এইচএসসি ২০২২ পরীক্ষার্থীদের ৬ষ্ঠ সপ্তাহের এ্যাসাইনমেন্ট শিশুর বিকাশ ১ম পত্র উত্তর
তারিখ : — সেপ্টেম্বর , ২০২১ খ্রি .
বরাবর , প্রধান শিক্ষক রাকিবুল স্কুল ,ঢাকা।
বিষয় : পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ’ বিষয়ক প্রতিবেদন।।
জনাব,
বিনতি নিবেদন এই যে , আপনার আদেশ নং বা.উ.বি.৩৫৫-১
তারিখ ১৩/৯/২০২১ অনুসারে উপরােক্ত বিষয়ের উপর আমার স্বব্যখ্যাত প্রতিবেদনটি নিন্মে পেশ করলাম ।
বয়সসীমাসহ শিশুর বিকাশের বিভিন্ন স্তর
মা শিশুর বর্ধন ও বিকাশ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। শিশুর বয়স বাড়ার সাথে তার ওজন ও উচ্চতা যেমন বৃদ্ধি পায় JEE তেমনি তার অঙ্গ সঞ্চালন, শক্তি, সামর্থ্যও বৃদ্ধি পায়। সে দক্ষতা অর্জন করে।
শিশু শুধু শারীরিকভাবেই বড় হয়।
তার দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রতঙ্গ এবং মাথার আকার ও গঠনের যথেষ্ট পরিবর্তন হয়। মাথার (মগজ) বর্ধনের ফলে শিশুর শিক্ষণ ক্ষমতা বেড়ে যায় এবং সেই সাথে সাথে তার স্মৃতিশক্তি ও যুক্তির ক্ষমতাও বাড়ে। এই ভাবেই শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে উঠে। একজন পূর্ণদেহী মানুষ হতে একটি শিশুকে অনেক ধাপ অতিক্রম করতে হয়। একেক ধাপের পরিণতি পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি ও সুস্থ বিকাশের জন্য
প্রয়ােজন। যেমন- অতি শৈশবকালে শিশু যদি ঠিকমত দাঁড়াতে না পারে, হাঁটতে না পারে, দৌড়াতে না পারে, নিজে খেতে না শিখে এবং জামা পরতে না শিখে তবে পরবর্তী ধাপে তার
স্বাভাবিক অঙ্গ সঞ্চালনের বিকাশ বিলম্বিত হতে পারে।
শিশুর বিকাশের এ ধাপ বা স্তরগুলাে হলজনুপূর্বকাল (Prematal Period): সূচনামুহুর্ত থেকে জন্মগ্রহণ পর্যন্ত সময়কাল। মাতৃগর্ভের
অর্থাৎ যখন থেকে মানব সন্তানের জন্ম হয় তখন থেকে ৯ মাস বা ২৮০ দিন পর্যন্ত এই ধাপ বিস্তৃত। এই সময়কাল বেশ সংক্ষিপ্ত।
কিন্তু এই সময়ের বর্ধন খুব দ্রুত। কারণ এই সময়ের মধ্যে স্পষ্ট হয় মানব কাঠামাে এবং তার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য। নবজাতকের স্বাভাবিক ওজন ২.৫-৩.০ কেজি। একটি সুস্থ সদ্যজাত শিশু
জন্মের পরই চিৎকার করে কাঁদে। তারা দিনে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘন্টাই ঘুমায়। কান্নাই তাদের একমাত্র অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম।
নবজাতকাল (Neonatal Period): শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে নবজাতকাল শুরু হয় এবং শেষ হয় ২ সপ্তাহ বা ১৪ দিন পর। কাজেই
অন্যান্য বিকাশমূলক স্তরের চেয়ে নবজাতকাল বেশ সংক্ষিপ্ত। এই ধাপে শিশু নতুন পরিবেশের সাথে পরিচিত হয় এবং খাপ খাইয়ে চলার প্রচেষ্টা শুরু হয়। একটি ভিন্নতর পরিবেশের সাথে
সঙ্গতি বিধান করার সময় নবজাত শিশুর অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।
অতি শৈশব ও টডলারহুড (Bobyhood and Toddlerhood): শিশু জন্মের পর ২ সপ্তাহ হতে ২ বছর পর্যন্ত সময়কাল। শিশু জন্মের ২ সপ্তাহ
পর থেকে পরবর্তী ২ বছরে তার আচরণের পরিবর্তন হয়। তার পরনির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে অথচ উল্লেখযােগ্যভাবে কমতে থাকে। এই স্তরে শিশুরা দৈহিক ও মানসিক দিক দিয়ে দ্রুত বৃদ্ধি লাভ করে থাকে। ফলে শিশুর চেহারার পরিবর্তনই শুধু হয় না। সাথে সাথে তার কর্মদক্ষতাও বৃদ্ধি পায়। শিশুর অস্থি, পেশি স্নায়ুর গঠন ও পরিপক্কতা এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান হওয়ায় শিশু সম্বন্বিতভাবে হাত-পা ব্যবহার করতে পারে। শিশু টুপি, মােজা টেনে খুলতে পারে। খেলনা গাড়ি নাড়াচাড়া করা এবং পেন্সিল দিযে আঁকিঝুঁকি করতে পারে। ১ম বৎসর অতি শিশু, ২য় বৎসর হলাে টডলার। এই বয়সের শিশুদের আধাে-আধাে কথা বলা পরিবারের সবাইকে আকৃষ্ট করে।
প্রারম্ভিক শৈশবকাল (Early Childhood): এই স্তর শুরু হয় ২ বৎসর বয়স হতে এবং চলতে থাকে ৬ বছর পর্যন্ত। এই সময়ে শিশু লম্বা ও
ক্ষীণকায় হয়। হাঁটা, দৌড়ানাে, খেলাধুলা করা, ধরা ইত্যাদিতে আরও বেশি দক্ষতা অর্জন করে। তারা নিজের কাজগুলাে করতে পারে। যেমন- নিজে খাওয়া, পােশাক পরা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া ইত্যাদি। তারা পরিবারের সদস্যদের
অনুকরণ করে। সমবয়সীদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে শুরু করে। এ বয়সে তারা কৌতুহলী হয় ও অনেক প্রশ্ন করে।
স্তর অনুযায়ী প্রতিকী ছবি সংযুক্তকরণ /ছবি
অংকণ
প্রতিটি স্তরের বৈশিষ্ট্য সুস্পষ্টকরণ ও পরিপক্কতা এবং শিক্ষণের প্রভাব উল্লেখ ।
২ মাস : কথা বললে হাসি।
৩ মাস : মাকে চিনতে পারা।
৪ মাস : গলা জড়িয়ে ধরা, ঘুরে তাকানো।
৫ মাস : কোনো জিনিসের কাছে গিয়ে তা ধরতে শেখা।
৬ মাস : ‘মা’, ‘বা’, ‘দা’ শব্দ বলা।
৮ মাস : কারো সাহায্য ছাড়া বসতে শেখা।
৯ মাস : হামাগুড়ি দিতে শেখা।
১২ মাস : দাঁড়াতে শেখা।
১৩ মাস : কোনো সাহায্য নিয়ে হাঁটতে শেখা।
২৪ মাস : সিঁড়ি দিয়ে ওঠা এবং ছোট ছোট বাক্য বলা।
৩৬ মাস : তিন চাকার সাইকেলে চড়তে শেখা।
৪৮ মাস : হাত দিয়ে বল ছোড়া এবং সিঁড়ির একটা ধাপে একটা পা দিয়ে দিয়ে ওঠা।
৭২ মাস : দেখে দেখে জটিল আকৃতি আঁকতে শেখা।
শিশুর বিকাশের স্তর
► জন্মের পর থেকে ছয় সপ্তাহ।
► শিশুর মাথা একদিকে ফিরিয়ে চিত হয়ে শোয়া।
► হঠাৎ আওয়াজে চমকে যায় বা শরীর স্থির হয়ে যায়।
► হাতের মুঠো বন্ধ করে থাকে।
► বাচ্চার হাতের তালুতে কিছু ছোঁয়ালে সেটা ধরার চেষ্টা
করে।
৬ থেকে ১২ সপ্তাহ
► নিজের মাথা স্থির করতে শিখে।
► চোখের দৃষ্টি কোনো জিনিসের ওপর স্থির করতে পারে।
তিন মাস
► চিত হয়ে শুয়ে বাচ্চা দুই হাত-পা সমানভাবে নাড়ে। তার
নড়াচড়া ঝাঁকুনি দিয়ে বা অসংবদ্ধ হয় না। কান্নার আওয়াজ
ছাড়াও বাচ্চা মুখ দিয়ে নানা রকম আওয়াজ করে।
► শিশুটি তার মাকে চিনতে পারে এবং তার গলার আওয়াজে
সাড়া দেয়।
► হাত প্রায়ই খোলা থাকে।
► যখন সোজা করে তোলা হয় সে বেশ কিছুক্ষণ মাথা সোজা
রাখতে পারে।
ছয় মাস
► দুই হাত জড়ো করে খেলে।
► আশপাশে শব্দ শুনলে মাথা ঘোরায়।
► চিত থেকে উপুড় বা উপুড় থেকে চিত হতে পারে।
► ঠেকা দিয়ে অল্প সময়ের জন্য বসতে পারে।
► শিশুকে উঁচু করে ধরলে পায়ে কিছু ভার নিতে পারে।
► উপুড় হয়ে শুয়ে হাত-পা ছড়িয়ে নিজের শরীরের ভার নিতে
পারে।
৯ মাস
► কোনো অবলম্বন বা ঠেকা ছাড়া কিছু না ধরে বসতে পারে।
► হাঁটু ও হাতের ওপর ভর করে হামাগুড়ি দিতে পারে।
১২ মাস
► বাচ্চা ঠেলে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে।
► ‘মামা’ বলতে শুরু করে।
► আসবাব ধরে বাচ্চা হাঁটতে পারে।
১৮ মাস
► সাহায্য ছাড়াই একটা গ্লাস ধরতে পারে এবং তার থেকে
পানি পান করতে পারে।
► বড় ঘরে না পড়ে গিয়ে সাহায্য ছাড়াই হাঁটতে পারে।
► দু-একটা শব্দ বলতে পারে।
► নিজে নিজে খেতে পারে।
দুই বছর
► পায়জামা ধরনের কিছু জামাকাপড় খুলে ফেলতে পারে।
► না পড়ে গিয়ে দৌড়াতে পারে
► ছবির বইয়ের ছবিতে বাচ্চা আনন্দিত হয়।
► বাচ্চা কী চায় বলতে পারে।
► অন্যদের বলা কথা বাচ্চা নকল করতে শুরু করে।
► তার শরীরের কিছু কিছু অংশ চেনাতে পারে।
তিন বছর
► হাত তুলে কাঁধের ওপর থেকে বল ছুড়তে পারে (পাশের বা
নিচের দিকে নয়)
► সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, যেমন—‘তুমি ছেলে,
না মেয়ে?’
► কোনো জিনিস সরিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
► অন্তত একটা রঙের নাম বলতে পারে।
চার বছর
► সাইকেল প্যাডেল করতে পারে
► বইয়ে বা ম্যাগাজিনের ছবির নাম বলতে পারে।
পাঁচ বছর
► তার জামাকাপড়ের বোতাম লাগাতে পারে।
► অন্তত তিনটি রঙের নাম বলতে পারে।
► পা বদল করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারে।
► পা ফাঁক করে লাফাতে পারে।
শিশুর বিকাশে বিলম্ব
আলোচিত বিকাশের স্তরগুলোর মধ্যে কয়েকটি যদি শিশুর মধ্যে
প্রকাশ না পায়, তবে শিশুর বিকাশ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা
যেতে পারে। সাধারণভাবে এই দক্ষতাগুলোর মধ্যে ২৫ শতাংশ
না দেখা গেলে বলা যেতে পারে শিশুর বিকাশে বিলম্ব হচ্ছে।
তা ছাড়া কয়েক মাস পরও যদি শিশু বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক
কাজ করতে না পারে, তবে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখানো
দরকার।
প্রতিবেদকের নাম : নিজের নাম
রোল নং : ০১
প্রতিবেদনের ধরন : প্রাতিষ্ঠানিক,
প্রতিবেদনের শিরোনাম : পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ সম্পর্কিত প্রতিবেদন।
প্রতিবেদন তৈরির স্থান : নিজের স্থান
তারিখ : –/—/২০২১ ইং ।


Leave a Comment