এইচএসসি বিএম মার্কেটিং নীতি ও প্রয়োগ অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর

এইচএসসি বিএম মার্কেটিং নীতি ও প্রয়োগ অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ ১ম সপ্তাহ বিষয়: বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বাের্ডের অধীনে পরিচালিত ২০২১ সালের এইচএসসি (বিএম) শিক্ষাক্রমের দ্বাদশ শ্রেণির পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচির আলােকে অ্যাসাইনমেন্ট সংক্রান্ত । উপযুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানাে যাচ্ছে , চলমান কোভিড -১৯ মহামারির কারণে দেশের সকল পর্যায়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে ।

সংগত কৱণে শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যসূচি পূর্নাঙ্গরূপে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি । সে প্রেক্ষিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বাের্ড ( এনসিটিবি ) এর সহযেগিতায় ২০২১ শিক্ষাবর্ষের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বাের্ডের এইচএসসি ( বিএম ) , শিক্ষাক্রমের দ্বাদশ শ্রেণির বিষয় ও ট্রেড ভিত্তিক পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচি প্রস্তুত করা হয়েছে । প্রস্তুতকৃত পুনর্বিন্যাস্ত পাঠ্যসূচি সংশ্লিষ্ট সকলের সদয় অবগতি ও প্রয়ােজনীয় কার্যার্থে ইতঃপূর্বে বাের্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে ।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ২৬ জুলাই ২০২১
শ্রেণিএইচএসসি (দ্বাদশ)
বিষয়মার্কেটিং নীতি ও প্রয়োগ
সপ্তাহপ্রথম
সাল২০২১
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটwww.bteb.gov.bd
অ্যাসাইনমেন্ট উত্তর পেতেwww.priojob.com

HSC BM Principles Marketing And Application Assignment Answers

অধ্যায় -১ উৎপাদনের ধারণা

মূলধন গঠনের চক্র এবং গুরুত্ব ব্যাপকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা উৎপাদনের রাখে উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন

  • অর্থনৈতিক উন্নয়ন এর ধারণা
  • মূলধন ও মূলধন গঠন এর ধারণা 
  • মূলধন গঠন এর চক্র
  • মূলধন গঠন এর গুরুত্ব
  • অর্থনৈতিক উন্নয়ন এর ধারণা ব্যাখ্যা করতে হবে
  • মূলধন ও মূলধন গঠন এর ধারণা ব্যাখ্যা করতে হবে
  • মূলধন গঠন এর চক্র বর্ণনা করতে হবে 
  • মূলধন গঠন এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা
উত্তর 
অর্থনৈতিক উন্নয়ন 

উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অন্যতম হাতিয়ার হল অর্থ ও মূলধন। অর্থ ব্যতীত কোন উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপেই অর্থ ব্যয় করতে হয়। যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, অবকাঠামােতে বয়ে, প্রমের মজুরি প্রতিটি ক্ষেত্রেই অর্থের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকতে। হয়। আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। তাই প্রথমেই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অর্থের যােগান এর নিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে হবে।

মূলধন ও মূলধনের ধারণা 

মূলধন উৎপাদনের অন্যতম একটি উপাদান। যে কোনাে ব্যবসায় শুরু করতে কিংবা কোনাে পণ্য বা সেবা উৎপাদন করতে প্রথমেই যা প্রয়ােজন তা হচ্ছে মূলধন। সাধারণত মূলধন বলতে অর্থ বা টাকা পয়সাকে বােঝায় কিন্তু এই মূলধন অর্থনীতিতে ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থনীতিতে মূলধন বলতে মানুষ কর্তৃক উৎপাদিত যে দ্রব্য সামগ্রী ভবিষ্যৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয় তাকে বােঝায়। মূলধন সম্পর্কে বলতে গিয়ে অধ্যাপক আলফ্রেড মার্শাল বলেন, Capital is fund and incomplete flow অর্থাৎ মূলধন একটি তহবিল ও তার প্রবাহ দ্বারা অর্থনীতিবীদ বয়ার্ক বলেন, ‘Capital is the produced means of production' opas মূলধন উৎপাদনের উৎপাদিত উপাদান। অর্থাৎ মূলধন হতে হলে অবশ্যই তা উৎপাদনশীল এবং প্রম দ্বারা সৃষ্টি হতে হবে। এছাড়া মূলধন বলে গণ্য হবে নী। উপরের আলােচনা থেকে এই সিদ্ধান্তে আসা যায়। যে, প্রাকৃতিক সম্পদের উপর শ্রদ্ধাবােধ শক্তি প্রয়ােগ বা ববহার করে যে দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন করা হয় এবং পুনরায় তা অতিরিক্ত আয়ের সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করা হয় তাই মূলধন।

মূলধন গঠনের চক্র

মূলধন গঠন কয়েকটি পর্যায়ে কিংবা কয়েকটি ধাপে সংঘটিত হয়। মূলত চারটি স্তরের মধ্য দিয়ে | গঠিত হয়। নিম্নে মূলধন গঠনের পর্যায় গুলাে আলােচনা করা হলােঃ 

১) আয় ২ মঞ্চয় সৃষ্টি | ৩) সঞ্চয় সংগ্রহ ৪) বিনিয়ােগ 

আয়ঃ প্রথম পর্যায় হচ্ছে আয়। আয়ের উপর ভিত্তি। করেই মূলধন গঠিত হয়। আয় না থাকলে মূলধন গঠন সম্ভব নয়। যে সমাজে মানুষের আয় যত বেশি। সে সমাজে মূলধন গঠনের সম্ভাবনাও তত বেশি। আয়ের একাংশ মানুষ সঞ্চয় করেন যা পরবর্তী সময়ে মূলধন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং বলা যায় যে আয়ই হল মূলধন গঠনের প্রথম ও প্রধান ধাপ।

সঞ্চয় সৃষ্টিঃ মূলধন গঠনের দ্বিতীয় ধাপ হলাে সঞ্চয় সৃষ্টি। আয়ের পুরােটাই ভােগে ব্যয় না করে মানুষ ভবিষ্যতের জন্য কিছু অংশ রেখে দেয় আর এভাবেই মানুষের। সঞ্চয়ের সৃষ্টি হয়। একটি দেশে সঞ্চয় সাধারণত তিনটি উৎস থেকে সৃষ্ট হয়। যথা-ব্যক্তিগত সঞ্চয়, ব্যবসায়ী। প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয় এবং সরকারি সঞ্চয় ব্যক্তিগত সঞ্চয় প্রধানত তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। যথা- সঞ্চয়ের সামর্থ্য, সঞ্চয়ের ইচ্ছা এবং বিনিয়ােগের সুযােগ সুবিধা। 

সঞ্চয় সংগ্রহঃ শুধু সঞ্চয় হলে মূলধন গঠন হয় না। মূলধন গঠনের তৃতীয় ধাপটি হলাে সঞ্চয়। সংগ্রহ। মূলধন গঠনের এই পর্যায়ে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বিচ্ছিন্ন ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় গুলােকে সংগ্রহ করে একত্র করা হয়। মঞ্চয় সংগ্রহে ক্ষেত্রে অর্থ বাজার, শেয়ার বাজার, ব্যাংক-বীমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিনিয়ােগঃ মূলধন গঠনের সর্বশেষ ধাপ হলাে সঞ্চিত অর্থকে দ্রব্য উৎপাদনের কাজে বিনিয়ােগ করা। ব্যক্তিগত মঞ্চয় কিংবা সংগ্রহীত সঞ্চয় বিনিয়ােগ করে মূলধনী দ্রব্য উৎপাদন করা হলে তবেই মূলধন গঠন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। তাই মঞ্চয় যত বেশিই হােক না কেন এগুলােকে যদি বিনিয়ােগ না করা যায় তবে মূলধন গঠন হবে না। মূলধন গঠনের জন্য উপযুক্ত প্রক্রিয়াগুলাে অনুসরণের মাধ্যমেই মূলধন গঠন করা হয়। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মূলধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্থায়ী মূলধন গঠনের উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। 

মূলধন গঠনের গুরুত্ব 

উৎপাদনের অন্যতম হতিয়ার হল মূলধন। মূলধনের সক্ষমতার উপর উৎপাদনের গতিশীলতা, উৎপাদনের হর প্রভৃতি নির্ভর করে থাকে। মূলধন সকল প্রকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠিতে পরিণত হয়েছে। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মূলধনের প্রবাহ তথা গতিশীলতা থাকা বাঞ্ছনীয়। নিম্নে মূলধনের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরা হলােঃ উৎপাদন বৃদ্ধি উৎপাদনের জন্য মূলধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত। মূলধনকে অবলম্বন করে একজন ব্যবসায়ী উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে এবং এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনের চাকাকে সচল রাখে। মূলধন বাতিত উৎপাদনের কথা চিন্তাও করা যায় না। মূলধন বিনিয়ােগের পরিমাণ এর উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ যত বেশি মূলধন বিনিয়ােগ করা সম্ভব হবে তত বেশি উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। 

জাতীয় আয় বৃদ্ধিঃ জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে মূলধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যে দেশের মূলধন বিনিয়ােগের মামর্থ্য যত বেশি সে দেশের জাতীয় আয়ের পরিমাণও ততবেশি, উদাহরণ হিসেবে আমেরিকা ও চীনের কথা বলা যায়। এই দুই দেশটিতে মূলধনের প্রাচুর্যতা রয়েছে এরা নিজ দেশের অভ্যন্তরে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ব্যবসায়ী মূলধন বিনিয়ােগ করে প্রচুর অর্থ আয় করছে। তাদের অর্জিত আয় জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎপাদন হ্রমঃ একসঙ্গে অনেক পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হলে একক প্রতি উৎপাদন খরচ কম পড়ে। এজন্য দরকার আধুনিক যন্ত্রপাতি। মূলধন সেই দরকার মেটায় এবং মূলধন এর মাধ্যমে বৃহদায়তন উৎপাদনের সুযােগ সৃষ্টি হয়। ফলে হ্রাস পায় একক প্রতি উৎপাদন খরচ। উৎপাদন খরচ কম হলে স্বাভাবিকভাবে দামও কম থাকে। ফলে ভােক্তা কম দামে বেশি পরিমাণ পণ্ট ভােগ করে। 

কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টিঃ মূলধন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রতিষ্ঠান আকার-আকৃতি নির্ভর করে মূলধনের বিনিয়ােগের পরিমাণের উপর অধিক মূলধন বিনিয়ােগ করলে বৃহদায়তন ব্যবসায়ের সুযােগ সৃষ্টি হয়। যে কোন দেশের ক্ষেত্রেবিবেচনা করলে দেখা যায়, যে দেশে মূলধনের পরিমাণ যত বেশি সে দেশে শিল্প-কারখানী ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার তত ঘটবে। ফলে কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি হবে। 

জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিঃ মূলধন মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বেশি মূলধন বেশি মুনাফা সৃষ্টি করে। বেশি মুনাফা মানুষের বিভিন্ন রকম প্রয়ােজন মেটায়। ফলে জীবনযাত্রার উন্নয়ন ঘটে। অধিক মূলধন বিনিয়ােগ মালিকের আয় বৃদ্ধি করে। সে তার ব্যবসায় নিয়ােজিত শ্রমিকদের বেতন ও মজুরি বৃদ্ধি করে। শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি তাদের বিভিন্নমুখী চাহিদা পূরণ করে | তাদের জীবনযাত্রার মানােন্নয়নে সহায়তা করে।

Leave a Comment