অ্যাসাইনমেন্ট শিরোনাম:
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক পরিবেশের উপাদানসমূহের প্রভাব বিশ্লেষণ;
শিখনফল/বিষয়বস্তু:
ক) ব্যবসায় পরিবেশের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে;
খ) ব্যবসায় পেিবশের বিভিন্ন উপাদান ব্যাখ্যা করতে পারবে;
গ) ব্যবসায়ের উপর পরিবেশের উপাদানগুলাের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
ঘ) ব্যবসায়ের পরিবেশের উপাদানগুলাের মধ্যে কোনগুলাে বাংলাদেশের অনুকূল বা প্রতিকূল তা চিহ্নিত করতে পারবে;
ঙ) বাংলাদেশে ব্যবসায় পরিবেশ উন্নয়নের পথে বিদ্যমান সমস্যাগুলাে সনাক্ত করতে পারবে এবং তা দূরীকরণের উপায় চিহ্নিত করতে পারবে;
নিদের্শনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি):
ব্যবসায় পরিবেশের ধারণা ব্যাখ্যা করতে হবে;
ব্যবসায়ের উপর ব্যষ্টিক পরিবেশের উপাদানগুলাের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে হবে;
ব্যবসায়ের উপর সামষ্টিক পরিবেশের উপাদানগুলাের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে হবে;
সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পরিবেশের উপাদানসমূহের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে হবে;
(প্রয়ােজনে নিজ জীবনের অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে)
ক. ব্যবসায় পরিবেশের ধারণা ব্যাখ্যা
ব্যবসায়ের পরিবেশ হলাে একটি ব্যবসায়কে প্রভাবিত করে এমন সমস্ত বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ কারণগুলির সমষ্টি। যেমন: কর্মচারী, গ্রাহকদের চাহিদা এবং প্রত্যাশা, পরিচালনা, ক্লায়েন্ট, সরবরাহকারী, মালিক, সরকার কর্তৃক
কার্যক্রম, প্রযুক্তির উদ্ভাবন, সামাজিক প্রবণতা, বাজারের প্রবণতা, অর্থনৈতিক সমষ্টি, প্রাকৃতিক অবস্থা ইত্যাদি।
এই কারণগুলি ব্যবসায় এবং ব্যবসায় পরিস্থিতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। সুতরাং, পরিবেশের যেসব উপাদান ও অবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়ের কার্যাবলিকে প্রভাবিত করে, তাদের সমষ্টিকে ব্যবসায় পরিবেশ বলে।
পরিবেশের বিভিন্ন প্রকৃতিক ও অপ্রাকৃতিক উপাদানের কারণে ব্যবসায় ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়, এসব উপাদনগুলি ব্যবসায়ের জন্য অনুকুল হতে পারে, আবার প্রতিকূল বা ক্ষতির কারণও হতে পারে। কিন্তু কোনাে ব্যবসায় কখনাে এসব
উপাদানগুলি এড়িয়ে চলতে পারে না। ব্যবসায় পরিবেশ যে কোনও ব্যবসায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।
ব্যবসায় পরিবেশের উপর নির্ভর করে অনেক ধরনের ব্যবসায় গড়ে উঠে। যেমন: আমাদের দেশে পাট চাষ ভালাে হয় যার ফলে পাঠ শিল্প গড়ে উঠেছে, আবার মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তেল খনি থাকায় তেল শিল্প গড়ে উঠেছে, আমেরিকা প্রযুক্তি দিয়ে এগিয়ে থাকায় তারা প্রযুক্তি নির্ভর শিল্প
করছে।
খ. ব্যবসায়ের উপর ব্যষ্টিক পরিবেশের উপাদানগুলাের প্রভাব ব্যাখ্যা
উত্তরঃ ব্যবসার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশের চারটি করে উপাদান সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হলাে- ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশের উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়।
অভ্যন্তরীণ পরিবেশ: একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ নানান সুযােগ-সুবিধা, নিয়ম-নীতি, দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা সংস্কৃতি ইত্যাদির সমন্বযে যে পরিবেশ গড়ে ওঠে তাকে ব্যবসায় অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বলে। এরূপ পরিবেশের উপাদান সমূহ নিম্নরূপ :
• মালিক বা শেয়ার হােল্ডার: মালিক বা শেয়ার
হােল্ডারগণ ব্যবসায় মালিক বিধায় তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা ব্যবসায় পরিবেশ কে প্রভাবিত করে। কোন দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাগণ যদি দক্ষ ও উত্তম মানসিকতার অধিকারী। হয় তবে তা ব্যবসায় পরিবেশ ইতিবাচক প্রভাব রাখে।
• শ্রমিক কর্মী : শ্রমিক কর্মী এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত সংঘ যে কোন প্রতিষ্ঠানে তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, আগ্রহ-অনাগ্রহ ব্যবসায় কার্যক্রমকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে।
• প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সংস্কৃতি : দীর্ঘকালে কোন
প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরে কতগুলাে ধারণা বিশ্বাস মূল্যবােধ ও নিয়ম-নীতি গড়ে ওঠে যা ব্যবসা কার্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
• প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ সুযােগ সুবিধা : প্রতিষ্ঠান
আর্থিক অবস্থার যন্ত্রপাতির মান ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও পদ্ধতি ভৌত সুযােগ-সুবিধা ইত্যাদি স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রভাব ফেলে।
• বাহ্যিক পরিবেশ : প্রতিষ্ঠানের বাইরের বিভিন্ন অবস্থা এবং পক্ষসমূহের কর্মকাণ্ড ও আচার-আচরণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠান কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে।
• প্রতিযােগী: ব্যবসায় জগতের প্রতিযােগিতা দের
কর্মকাণ্ড কর্মকৌশল কোন প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার করে।
• ক্রেতা বা ভােক্তা : অর্থের বিনিময় যারা পণ্য বা সেবা ক্রয় করে তারা বাহ্যিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচ্য।
• সরবরাহকারী: কাঁচামালের পণ্য সরবরাহকারী কোন ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
• মধ্যস্থ ব্যবসায়ী: কোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সরাসরি বাজারজাতকরণের নীতি গ্রহণ না করলে ক্রেতা বা ভােক্তা সাধারণের নিকট পণ্য পৌঁছানাের ক্ষেত্রে মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। সে ক্ষেত্রে মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের সংখ্যা তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা আচার-আচরণ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রভাব রাখে।
গ. ব্যবসায়ের উপর সামষ্টিক পরিবেশের উপাদানগুলাের প্রভাব
উত্তরঃ সামষ্টিক পরিবেশ: সামষ্টিক পরিবেশ হলাে এক কোন প্রতিষ্ঠান বিপণন কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণযােগ্য সেসব শক্তি উপাদান বা পক্ষসমূহ যা পরােক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। সামষ্টিক পরিবেশের উপাদান হলাে জনসংখ্যা বিষয়ক পরিবেশ, অর্থনৈতিক, প্রাকৃতিক প্রযুক্তিগত, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও আইনগত পরিবেশ।
সামষ্টিক পরিবেশের উপাদান সমূহ গতিশীল হবার কারণে খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়। সামষ্টিক পরিবেশের উপাদান সমূহের পরিবর্তন অনেক ক্ষেত্রেই পূর্বানুমান করা কঠিন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে ব্যষ্টিক পরিবেশের উপাদান সমূহের প্রভাবের সাথে খাপ খাওয়ানাের কৌশল অবলম্বন করতে হব। কেননা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ব্যবসায় সামষ্টিক পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সামষ্টিক পরিবেশের উপাদান সমূহ:
জনসংখ্যাগত পরিবেশ: ব্যবসার জন্য প্রথম এবং প্রধান বিষয়টি হলাে জনসংখ্যা। পরিবেশের একটা অন্যতম উপাদান হিসেবে জনসংখ্যা ব্যবসায়ীর ওপর প্রভাব ফেলে। কারন এর সঙ্গে জনগণ জড়িত এবং জনগণের বাজার সৃষ্টি করে।
অর্থনৈতিক পরিবেশ: একটি দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় সে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান দ্বারা। মাত্র বাজারে পণ্য সরবরাহ করাটা ব্যবসায়ীকদের প্রধান কাজ নয় বরং বাজারে ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতা বিবেচনা করে তাকে পণ্য সরবরাহ করতে হবে সুতরাং পণ্যের অর্থনৈতিক পরিবেশ ও প্রভাব বিস্তার করে।
প্রযুক্তিগত পরিবেশ: প্রযুক্তিগত পরিবেশের উপাদান গুলাের মাধ্যমে নতুন পণ্য উদ্ভাবন করা হ্য। আবার ব্যবসায় এই প্রযুক্তির কারণেই নতুন সুযােগ ও হুমকি সৃষ্টি করে।
রাজনৈতিক পরিবেশ: ব্যবসায় কার্যাবলি এর উপর প্রভাব সৃষ্টিকারী বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং সামাজিক স্বার্থ। সংরক্ষণকারী সংগঠনগুলাের কার্যক্রমের সমন্বয় রাজনৈতিক পরিবেশ গঠিত। সরকারি আইন কানুন রাজনৈতিক দল পদ্ধতি সরকারব্যবস্থার ধরন ইত্যাদির বিষয়গুলাের প্রতি
ব্যবসাযিকদের নজর দিতে হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যবসাযের অর্থনৈতিক রাজনৈতিক ও আইনগত পরিবেশের
প্রভাব ব্যাখ্যা করা হলাে:
বর্তমান প্রতিযােগিতামূলক বিশ্বের ব্যবসায়িক পরিবেশ এর সকল উপাদান অনুকূল না হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি লাভ করে টিকে থাকা কঠিন। নিম্নে ব্যবসায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব আলােচনা করা হলাে:
অর্থনৈতিক উপাদান :দেশের বিরাজমান কার্যকর অর্থ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা কৃষি ও শিল্পের অবদান জনগণের সঞ্চয় ও বিনিয়ােগ মানসিকতা ও সরকারের পৃষ্ঠপােষকতা ব্যবসা এর পরিবেশের সুদৃঢ় অর্থনৈতিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উপাদানগুলাের কয়েকটির ভিত্তি মজবুত হলেও অনেকগুলাের ভিত্তি তেমন সুদৃঢ় নয়।
চাহিদার তুলনায় প্রযােজনে মূলধনের অভাব, গ্রামীণ জনগণের ব্যাংকিং সেবা ও ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শহরের তুলনায় কম। সুবিধা,প্রশাসনিক জটিলতা, দালাল শ্রেণীর লােকদের হয়রানী, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ইত্যাদি প্রতিকূল
অবস্থা কাটাতে পারলে বাংলাদেশ ব্যবসায় বিকাশে আরাে দ্রুত অগ্রসর হতে পারবে।
রাজনৈতিক উপাদান: সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অনুকূল শিল্প ও বাণিজ্যনীতি, প্রতিবেশী ও অন্যান্য দেশের সাথে সুসম্পর্ক ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারে সহায়তা করে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ঘনঘন সরকার পরিবর্তন হরতাল-ধর্মঘট ব্যবসায় -বান্ধব শিল্প ও বাণিজ্য নীতির অভাব ইত্যাদি প্রতিকূল রাজনৈতিক উপাদান শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার বাধা সৃষ্টি করে। দেশি ও বিদেশি বিনিয়ােগকারী গণ বিনিয়ােগ করতে উৎসাহিত হয় না।
ব্যবসাযের উক্ত রাজনৈতিক উপাদানের সবগুলাে কাঙ্খিত পর্যায়ে বিদ্যমান নেই।
আইনগত উপাদান: রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে প্রণীত জারিকৃত বিভিন্ন আইন কানুন রীতিনীতি সরকারি আদেশ অধ্যাদেশ ইত্যাদির সমন্বয়ে দেশে আইনগত পরিবেশ সৃষ্টি। দেশে বিদ্যমান অংশীদারি ব্যবসায় আইন কোম্পানি আইন
সহ আইন সহ আইন সহ আইন সহ আইন পরিবেশ বিষয়ক আইন ইত্যাদি আইন বিধি বিধান ও নিয়ম কানুনের বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে ব্যবসায়ীকে কার্য পরিচালনা করতে হয়। তাই রাষ্ট্রীয় বিধি-বিধান ইত্যাদিও ব্যবসায় কার্যকলাপের অন্যতম পরিবেশগত প্রভাবক হিসেবে বিবেচিত।
অতএব সকল ধরনের সংগঠন বিশেষ করে ব্যবসায়িক ও সরকারি সংগঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবসায়ীদের একজন আইনজ্ঞের সাহায্য নিয়ে কাজ করা উচিত। ব্যবসায় মূল উদ্দেশ্য মুনাফা
অর্জন পরিবেশের উপাদান। যেমন: প্রাকৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি নেতিবাচক প্রভাবের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে। ব্যবসায় এসকল পরিবেশের উপাদানগুলাে যেখানে যে সুবিধা আছে তা কাজে লাগিয়ে এবং বাধাকে যােগ্যতার সাথে মােকাবেলা করে ব্যবসায়ীকে চলতে হবে।
ঘ. ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষেত্রে পরিবেশের উপাদান সমূহের প্রভাব
উত্তরঃ একটা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পরিবেশ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণে পরিবেশের বিভিন্ন ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এক রকম ব্যবসা। পরিবেশ গুলাে যদি উৎপাদনের জন্য বেশি সহায়ক হয় তাহলে নতুন নতুন ব্যবসা বাণিজ্য এবং শিল্প সহজে স্থাপন করা সম্ভব হয়। ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরিবেশের প্রভাব আলােচনা করা হলঃ
১। স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থাঃ রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল থাকলে দেশের যে কোন প্রান্ত হতে উৎপাদনের জন্য কাচামাল সহজেই সংগ্রহ করা যায়। এজন্য একজন ব্যবসায়ী হিসেবে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশকে বেশি বিবেচনায় রাখবেন। রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল থাকলে পরিবহনের ক্ষেত্রে জটিলতা পােহাতে হয় না।
২। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারঃ প্রযুক্তিগত পরিবেশের পর্যাপ্ত পরিমান সুবিধা থাকলে উৎপাদন কার্যক্রম দ্রুত এবং অপচয় রােধ করার মাধ্যমে করা সম্ভব। যে সমস্ত স্থানে উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়, সেখানে উৎপাদন এবং উৎপাদনশীলতার হার বেশি থাকে। আধুনিক প্রযুক্তি উৎপাদন ব্যবস্থা কে অনেক বেশি সহজ করে দিয়েছে। যেটা মানুষ করতে অনেক বেশি সময় লাগতাে, সেটা অল্প সময়ের মধ্যে সম্ভব হচ্ছে। তাই ব্যবসায়ীক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে
ব্যবসায় পরিচালক সব সময় আধুনিক প্রযুক্তিতে জোরদার দান করবে।
৩। জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থাঃ
একটা সময় বা এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান বা অর্থনৈতিক অবস্থা যদি ভালাে হয় তাহলে ঐ সমস্ত স্থানে খুব সহজে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা যায়। যদি মানুষজন তাদের উন্নত জীবনযাত্রা নিয়ে সচেতন, ওই ক্ষেত্রে জনগণ তাদের চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত পণ্য সামগ্রী সংগ্রহ করবে। এদিকে ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন করতে পারবে এবং এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করে যেতে পারবে।
৪) আইনি জটিলতাঃ আইনের জটিলতা বেশি থাকলে সব ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়না। কারণ সরকার যদি কোন পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাহলে ওই দেশে সব ধরনের পণ্য উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। তাই ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীকে আইনগত দিক সমূহ বিবেচনায় রাখতে হবে।
৫) পর্যাপ্ত কাঁচামালের সহজলভ্যতাঃ পর্যাপ্ত শ্রমিক এবং উৎপাদনের কাঁচামাল সহজলভ্য হলে উৎপাদন কার্যক্রমও সহজ হবে। কারণ উৎপাদনের কাঁচামাল যদি খুব সহজে সংগ্রহ করা যায় তাহলে উৎপাদন খরচ কমে যাবে। ব্যবসায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্যবসার জন্য কাঁচামালের উৎস এবং সহজলভ্যতার বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। কারণ পরিবেশের উপাদানগুলাে আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম
কে অনেক বেশি প্রভাবিত করে।


Leave a Comment