ক) মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে হিসাববিজ্ঞানের ভূমিকা বর্ণ না কর।
খ) লেনদেনে ব্যবহৃত বিভিন্ন দলিল পত্রাদির নাম লিখ এবং কাল্পনিক তথ্যের ভিত্তিতে চালান ও ক্যাশ মেমোর নমূনা ছক দেখাও।
নির্দেশনা :
- মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতার ধারণা ব্যাখ্যা করতে হবে
- হিসাব বিজ্ঞানের ভুমিকা ব্যাখ্যা করতে হবে।
- লেনদেনে ব্যবহৃত দলিল পত্রাদির বর্ণনা করতে হবে।
- চালান ও ক্যাশমেমোর ছক তৈরি করতে হবে
উত্তর সমূহ:
মূল্যবোধ ও জবাবদিহিতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে হিসাববিজ্ঞানের ভূমিকা বর্ণ না কর।
কোন ব্যক্তির উপর অর্পিত দায়িত্ব ও বন্টিত কাজ সঠিক ভাবে সম্পন্ন করে তার ফলাফল আদেষ্টাকে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে জবাবদিহিতা বলে। সমাজে বসবাসকারী সকল মানুষ তার কৃতকর্মের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে কারাে কাছে জবাবদিহি করে থাকে।
১। প্রতিটি দায়িত্বের কেন্দ্রে নিয়ােজিত ব্যক্তিদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্য বন্টন করে দেওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানে অপচয়, অপব্যয়, তহবিল চুরি ও জালিয়াতি কমে যায়।
২। প্রতিটি আর্থিক কর্মকান্ডে হিসাব ব্যবস্থার প্রতিফলিত হয়। এ জন্য প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়।
৩। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যে দায়িত্ব বন্টন ও উক্ত দায়িত্ব পালনের জন্যে প্রয়ােজনীয় ক্ষমতা প্রদান করা হলে, তারা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যকে নিজের লক্ষ হিসাবে গণ্য করে। ফলে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়।
৪। অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকলে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ দায়িত্ব পালনে সচেতন হবে।
মানুষের জীবনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রক্রিয়ায় হিসাববিজ্ঞান অনেক অবদান রাখে। হিসাববিজ্ঞানে জবাবদিহিতা না থাকলে প্রতিষ্ঠানে আর্থিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
মূল্যবােধ সৃষ্টিতে হিসাববিজ্ঞানের ভূমিকা:
সমাজ ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য উপাদান হচ্ছে মূল্যবােধ। যে সকল ধারণা, বিশ্বাস, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, মানুষের আচার-আচরণকে এবং কার্যাবলীকে পরােক্ষ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সে গুলােকে একত্রে মূল্যবােধ বলে।
১। ধর্মীয় অনুশাসন:
সম্পদের সৃষ্ট ব্যবহার এবং আর্থিক কর্মকান্ডের হিসাব-নিকাশ প্রদানের দায়িত্ব প্রতিটি মানুষের ধর্মীয় কর্তব্যের অন্তর্ভূক্ত।
২। নৈতিক চরিত্র গঠন:
হিসাবের খাতায় প্রতিটি লেনদেন সময় মত লিপিবদ্ধ করা। সঠিক ভাবে আর্থিক ফলাফল তৈরি করার মাধ্যমে মানুষকে ন্যায় ও অমূল্য চারিত্রিক গঠনে ভূমিকা রাখে।
৩। সঞ্চয় ও মিতব্যয়িতা:
হিসাববিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে হিসাব সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, যা একজন মানুষকে তার অর্জিত আয় হতে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে শেখায়।
৪। আত্মবিশ্বাস ও স্ব-নির্ভর:
হিসাববিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে বাজেট প্রণয়ন, জমা খরচ, আয়-ব্যায় ও লাভ-লােকসান ইত্যাদি হিসাব সম্পর্কে জানতে পারা যায়। ফলে একজন মানুষ যখন আত্মকর্মসংস্থানমূলক পেশা গ্রহন করে, তখন সে সহজে তার কর্মকান্ডকে পরিচালনা করতে পারে।
৫। দূর্ণীতি ও জালিয়াতি হ্রাস ও নিরীক্ষা: হিসাববিজ্ঞানের মাধ্যমে দূর্ণীতি পরায়ন ব্যক্তিদের সহজে চিনতে পারা যায়। শাস্তি ও দুর্নাম ভয়ে ঐ ব্যক্তি তহবিল তছরুপ বা অপব্যয় ইত্যাদি কার্যক্রম হতে বিরত থাকে। ফলে উক্ত মানুষের মধ্যেমূ ল্যবােধ সৃষ্টি হয়। পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, মানুষের জীবনে সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা তৈরিতে হিসাববিজ্ঞান অনেক অবদান রাখে। হিসাববিজ্ঞানে জবাবদিহিতা না থাকলে প্রতিষ্ঠানে আর্থিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
লেনদেনে ব্যবহৃত বিভিন্ন দলিল পত্রাদির নাম লিখ এবং কাল্পনিক তথ্যের ভিত্তিতে চালান ও ক্যাশ মেমোর নমূনা ছক দেখাও।
প্রাথমিক দলিল সমূহ:
চালান: ধারে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় একটি প্রামাণ্য দলিল।
ক্যাশমেমো: নগদে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় একটি প্রামাণ্য দলিল।
ডেবিট নোট; ক্রয়কৃত পণ্য ফেরতের জন্য নোট ব্যবহৃত হয়। ডেবিট নোটকে দেনা লিপি বা দেনা চিঠি বলা হয়।
ক্রেডিট নোট: বিক্রীত মাল ফেরতের জন্য ক্রেডিট নোট ব্যবহৃত হয়। ক্রেডিট নোটকে পাওনা লিপি বা চিঠি বলে।
ভ্যাট চালান: ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইন অনুযায়ী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ছকে পণ্য বিক্রেতা যে চালান প্রস্তত করে তাকে ভ্যাট চালান বলে।
চূড়ান্ত দলিল সমূহ:
ডেবিট ভাউচার: নগদে পণ্য ক্রয়সহ বিভিন্ন ধরনের খরচের জন্য ব্যবহৃত ভাউচারকে ডেবিট ভাউচার বলে।
ক্রেডিট ভাউচার: নগদে পণ্য বিক্রয়সহ বিভিন্ন ধরনের আয়ের জন্য ব্যবহৃত ভাউচারকে ক্রেডিট ভাউচার বলে।
জার্নাল ভাউচার: অনগদ লেনদেন (অবচয়, অবলোপন, অনাদায়ী পাওনা সঞ্ঝিতি ইত্যাদি) এর জন্য ব্যবহৃত ভাউচারকে জার্নাল ভাউচার বলে।



Leave a Comment