অ্যাসাইনমেন্টঃ বিপণনের ধারণা, ক্রমবিকাশ
ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ
নির্দেশনা (সংকেত/ধাপ/পরিধি):
ক. বিপণনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে করতে হবে;
খ. বিপণনের ক্রমবিকাশ বর্ণনা করতে করতে হবে;
গ. বিপণনের বৈশিষ্ট্যগুলাে চিহ্নিত করতে হবে;
ঘ. বাজার, বিক্রয় ও বিপণনের মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে হবে;

এইচএসসি পরীক্ষা ২০২১ তৃতীয় সপ্তাহের উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন অ্যাসাইনমেন্ট সমাধান বা উত্তর

বিপণনের ধারণা, ক্রমবিকাশ ও বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণঃ
বিপণনের ধারণা
বিপণন বা বাজারজাতকরণ (ইংরেজি: Marketing) হলো পণ্য বা মূল্যের বিনিময়ে কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রয়োজন ও অভাব পূরণ করার সামাজিক এবং ব্যবস্থাপকীয় কার্যক্রম। Converse- এর মতে, “সময়গত, স্থানগত এবং স্বত্ত্বগত উপযোগ সৃষ্টি করাই বিপণন”। আমেরিকান মার্কেটিং এ্যাসোসিয়েশন-এর প্রদত্ত
সংজ্ঞানুসারে:
“ সংগঠন ও স্টেক হোল্ডারদের সুবিধার্থে ক্রেতা
সম্পর্কভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং ক্রেতা সৃষ্টি, যোগাযোগ স্থাপন ও ভ্যালু প্রদানের লক্ষ্যে সম্পাদিত সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং প্রক্রিয়ার সমষ্টিকেই বিপণন বলে।”

মানুষ জন্মগ্রহণ করার পর থেকে আমৃত্যু বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার করে। মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে তার চাহিদা মেটানোর জন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের পণ্য বা সেবা ক্রয় ও ভোগ করে থাকে। ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাবার ক্রয় করে, বাসস্থানের
জন্য ঘর বাড়ি ক্রয় করে, আবার চিকিৎসার জন্য চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে। পণ্য বা সেবা ভোগ করার জন্য মানুষ নির্দিষ্ট বাজার থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজন অনুসারে ক্রয় ও ভোগ করে।

লক্ষ্য করা যায় যে, পণ্য বা সেবার ধারণার সৃষ্টি থেকে শুরু করে ক্রেতাদের মাঝে তা পরিচিতিকরন, উৎসাহ প্রদান, পণ্য বন্টন, মূল্য নির্ধারণ, ক্রয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা প্রদান
এবং বিক্রয়োত্তর সেবাসহ বিভিন্ন কাজের সাথে বিপণন বা বাজারজাতকরণ জড়িত।

ল্যাটিন শব্দ Marcatus থেকে ইংরেজি Market শব্দের উৎপত্তি। এই Market শব্দ থেকে পরবর্তীতে Marketing শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। এর বাংলা প্রতিশব্দ হলো বিপণন বা বাজারজাতকরণ। অনেক সময়ই বিপণন বা মার্কেটিং দিয়ে শুধুমাত্র ক্রয় বিক্রয় বা প্রচারণা কার্যকে বোঝানো হয়ে থাকে। প্রকৃতপক্ষে ক্রয় বিক্রয় বা প্রচারণা হচ্ছে বিপণনের অনেক কাজের অংশবিশেষ।

বিপণন একটি পরিবর্তনশীল ও জটিল বিষয়। বর্তমান সময়ে বিপণন বলতে সন্তোষজনকভাবে ক্রেতা বা ভোক্তার প্রয়োজন সমূহ পূরণকে বুঝায়। বিপণন এর মূল উদ্দেশ্য হলো ক্রেতা ভ্যালু বা সুবিধা সরবরাহের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে নতুন
করে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করা এবং সন্তুষ্টি বিধানের মাধ্যমে বর্তমান ক্রেতাকে ধরে রাখা ও সন্তুষ্ট ক্রেতার সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

সাধারণ অর্থে, বিপণনকে একটি প্রক্রিয়াভিত্তিক কাজ বলা হয়। যা ভোক্তাদের জন্য ভ্যালু বা সুবিধা সৃষ্টি করে, ভোক্তাদের সন্তুষ্টি বিধান করে এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্রেতা- বিক্রেতার সম্পর্ক সৃষ্টি করে ও বজায় রাখে।

অন্য অর্থে, ভোক্তার প্রয়োজন ও অভাব সন্তুষ্টি বিধানের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে উৎপাদন পূর্ব কিছু কার্যক্রম থেকে শুরু করে উৎপাদনকারীর নিকট থেকে পণ্য বা সেবা ভোক্তা বা ক্রেতার নিকট পৌঁছানো এবং ভোগ বা ব্যবহারের পরবর্তী পর্যায়ের কার্যক্রমের সমষ্টিকে বিপণন বলে।
বিপণনের ক্রমবিকাশ





বাজার, বিক্রয় ও বিপণনের মধ্যে পার্থক্য

বাজার, বিক্রয় ও বিপণন শব্দগুলো কাছাকাছি হলেও এদের মাঝে অর্থগত ও ব্যবহারিক দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে। নিম্নে পার্থক্য গুলো উল্লেখ করা হলো।
১. সংজ্ঞা:
বাজার- বাজার হল কোন পণ্যের বর্তমান ও সম্ভাব্য ক্রেতার সমষ্টি। বিপণন- প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনের জন্য পণ্য বা সেবা সৃষ্টি ও বিনিময়ের মাধ্যমে ক্রেতা ও ভোক্তার সন্তুষ্টি অর্জন করাকে বিপণন বলা হয়। বিক্রয়- বিক্রয় হলো নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে পণ্য বা সেবার মালিকানা হস্তান্তর এর সাথে জড়িত বিভিন্ন কার্যক্রমের সমষ্টি।
২. উদ্দেশ্য:
বাজার- ক্রেতা ও ভোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা। বিপণন- ক্রেতা ও ভোক্তার চাহিদা পূরণ করে সন্তুষ্টি অর্জন করা। বিক্রয়- বিক্রয় এর উদ্দেশ্য হলো পণ্য বা সেবার মালিকানা হস্তান্তর।
৩. উপযোগ:
বাজার- পণ্যের স্বত্বগত উপযোগ সৃষ্টি হয়।
বিপণন- পণ্যের সময়গত, স্থানগত ও স্বত্বগত উপযোগ সৃষ্টি হয়। বিক্রয়- মালিকানাগত উপযোগ সৃষ্টি হয়।
৪. গুরুত্ব:
বাজার- বিক্রেতার প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিপণন- ক্রেতা বা ভোক্তার প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিক্রয়- পণ্য বিক্রয় এবং মুনাফা বৃদ্ধির প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
৫. পরিকল্পনা:
বাজার- স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা থাকে। বিপণন- দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকে। বিক্রয়- বিক্রয় পরিকল্পনা সাধারণত স্বল্পমেয়াদী হয়ে থাকে।

Leave a Comment