অ্যাসাইনমেন্ট : বল প্রয়োগে বস্তুর সরণের মান পরিবর্তন ছাড়া কাজ নিরূপণ সম্ভব নয়, ব্যাখ্যা কর ।
শিখনফল/বিষয়বস্তু :
কাজ ও শক্তির সার্বজনীন ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারবে।
বল ও সরনের সাথে কাজের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারবে।
স্থির ও পরিবর্তনশীল বল দ্বারা সম্পাদিত কাজ ব্যাখ্যা করতে পারবে
নির্দেশনা (সংকেত/ ধাপ/ পরিধি):
কাজ ও শক্তির ধারণা ব্যাখ্যা করতে হবে।
বল ও সরণের সম্পর্ক নিরূপণ করতে হবে
স্থির বল দ্বারা কৃত কাজ পরিমাপ করতে হবে।
পরিবর্তনশীল বল দ্বারা কৃত কাজ পরিমাপ করতে হবে।
Hsc ভোকেশনাল ১১শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান (১) ৪র্থ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টের সমাধান ২০২১
- কাজ ও শক্তির ধারণা ব্যাখ্যা করতে হবে।
কাজ (Work):
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ‘কাজ’ ও ‘শক্তি’ বহুল ব্যবহৃত দুটি শব্দ। কৃষক মাঠে কাজ করে ফসল উৎপাদন করেন, শ্রমিক কারখানায় কাজ করেন। শিল্পী ক্যানভাসে প্রকৃতিকে তুলে ধরেন, বৈমাণিক বিমান চালিয়ে মানুষকে একমহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে স্থানান্তর করেন। আবার যার শক্তি বেশি সে বেশি কাজ করতে পারে এমন বিশ্বাস আমাদের সকলেরই আছে। যাদের শারিরীক সামর্থ্য বেশি তারা বেশি পরিশ্রম করতে পারে, বেশি সময় কাজ করতে পারে।
সাধারণভাবে আমাদের ধারণার মধ্যে কাজ ও শক্তি সমার্থক শব্দ। যার শক্তি বেশি সে বেশি কাজ করতে পারে। কাজের সাথে শারীরিক সামর্থ্য সম্পর্কিত। তবে সকল কাজকে কাজ
হিসাবে বিবেচনা করা যায় না। কাজের সাথে ফলাফল সম্পৃক্ত। কাজ সম্পন্নের পর ফলাফল পাওয়া না গেলে কাজ সার্থক হয়েছে বলা যাবে না।
সারা বছর পড়াশোনা করে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে না পারলে সারা বছরে সম্পন্ন কাজ সফল হয় না। আমাদের বাস্তব জীবনের মতই পদার্থবিজ্ঞানেও কাজ সম্পন্ন তখনই হবে যখন কাজের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট পরিমাপযোগ্য ফলাফল পাওয়া যাবে। বস্তুর উপর বল প্রয়োগে যদি বস্তুর অবস্থায় পরিবর্তন ঘঠে তখন বল দ্বারা কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলা হবে।
বল এবং বল প্রয়োগে সৃষ্ট সরণের গুণফল দ্বার কজের পরিমাপ করা হয়। কোনো একটি বস্তুকে ভুমি হতে উপরের দিকে উঠালে বস্তুটি অভিকর্ষীয় বলের বিরুদ্ধে কাজ করে। আবার উপর হতে কোন বস্তু ভুমিতে পতিত হলে বস্তুটি অভিকর্ষীয় বলের দিকে কাজ করে। উভয় ক্ষেত্রে বস্তুর সরণ ঘটেছে বলে কাজ সম্পন্ন হয়।
শক্তি (Energy):
পদার্থবিজ্ঞানে কাজ করার সামর্থ্যই হলো শক্তি।
পদার্থবিজ্ঞানে কাজ ও শক্তির সুনির্দিষ্ট এবং সুস্পষ্ট অর্থ আছে। কাজ ও শক্তি পরস্পর পরিপূরক। কাজের পরিমাণ করে শক্তি নির্ণয় করা যায়। কোনো ব্যবস্থা দ্বারা সম্পন্ন কাজ
পরিমাপ করে ঐ ব্যবস্থার শক্তি পরিমাপ করা যায়। পদার্থবিজ্ঞানে কাজ সম্পন্ন করতে হলে বলের প্রয়োজন হয়। আবার বল প্রয়োগে বস্তু গতি প্রাপ্ত হয়। গতির কারণে বস্তু গতিশক্তি লাভ করে।
বস্তুর এই গতিশক্তিই বস্তু কর্তৃক সম্পন্ন কাজের পরিমাপক। বস্তুকে অভিকর্ষের বিরুদ্ধে উপরে উঠালে যে কাজ সম্পন্ন হয় তা বস্তুতে বিভবশক্তি হিসাবে সঞ্চিত থাকে। কাজ পরিমাপের সাহায্যে স্থিতিশক্তির পরিমাপ করা যায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, কাজ ও শক্তি পরস্পরের পরিপূরক মাত্র।
কাজ ও শক্তির একক অভিন্ন। কোন ব্যবস্থার (system) শক্তি পরিমাপের মধ্যে দিয়ে ব্যবস্থাটি কি পরিমাণ কাজ করতে সমর্থ হবে তা নির্ণয় করা যায়। একই ভাবে একটি ব্যবস্থা কর্তৃক সম্পন্ন কাজ পরিমাপ করে ব্যবস্থাটির শক্তির পরিমাণ
নির্ধারণ করা যায়। কাজ হচ্ছে শক্তির যান্ত্রিক স্থানান্তর। বস্তুর উপর বল প্রয়োগের ফলে বস্তুর অবস্থার পরিবর্তন ঘটলে শক্তির যে স্থানান্তর ঘটে তাই হচ্ছে কাজ।
বল ও সরণের সম্পর্ক নিরূপণ করতে হবে
“বল ও সরণের সম্পর্ক পদার্থবিদ্যায় বল (ইংরেজি: Force) হল এমন এক বাহ্যিক প্রভাব যা কোনাে বস্তুর বেগের মান বা অভিমুখ উভয়ের পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম (যেমন স্থির বস্তু গতিশীল করা, গতিশীল বস্তুর বেগের পরিবর্তন করা কিংবা গতিশীল বস্তুকে স্থির করা)। কোনও নির্দিষ্ট ভরের বস্তুতে বলপ্রয়ােগের মধ্যমে তার গতিবেগ পরিবর্তন করা যায়। বলপ্রয়ােগের মাধ্যমে যদি বস্তুর গতিবেগ বৃদ্ধি হয় তাহলে পদার্থবিদ্যার সংজ্ঞা অনুযায়ী সেই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ত্বরণ।
বল (ইংরেজি: Force) হলাে এমন একটি বাহ্যিক প্রভাব যা কোনাে বস্তুর গতির, দিকের বা আকৃতিগত পরিবর্তন সাধন করতে সক্ষম। বল। সম্পর্কে একটি সহজাত ধারণা হলাে— টানা বা ঠেলা, যা কোনাে ভরযুক্ত বস্তুর বেগের পরিবর্তন ঘটায়। এর মাধ্যমে স্থির বস্তু গতি লাভ করতে পারে বা গতিশীল বস্তুর বেগের পরিবর্তন ঘটতে পারে এমনকি স্থিতিশীলও হতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, বড় বস্তুতে ত্বরণ সৃষ্টি করে বা নমনীয় বস্তুকে বিকৃত করতে পারে। বল প্রকাশ করতে এর। মান ও দিক উভয়েরই প্রয়ােজন , তাই এটি একটি ভেক্টর রাশি। পদার্থবিজ্ঞানী নিউটনের দ্বিতীয় সূত্রানুসারে, { F=m/a}
মানুপাতিক করা হয় এই ভেস্তে যায়। অর্থাৎ কোনাে বস্তুর ত্বরণের ওপর প্রযুক্ত নিট বল এর
সমানুপাতিক এবং ভর এর ব্যস্তানুপাতিক। ধারণা করা হয় এই নীতি আলাের বেগ এর কাছাকাছি গেলে ভেস্তে যায়। নিউটনের আসল সূত্র অবশ্য সর্বদা সত্য যা বলে,বস্তুর ভর বেগের পরিবর্তনের হার এর ওপর প্রযুক্ত বলের সমানুপাতিক।
কোনাে বস্তু বা বিন্দু একটি অবস্থান থেকে আরেকটি অবস্থানে স্থানান্তরিত হলে, প্রথম অবস্থান থেকে দ্বিতীয় অবস্থান অবধি ভেক্টরকে সরণ বলে। সরণের পরিমাণ হলাে দুটি অবস্থানের মধ্যবর্তী ন্যূনতম দূরত্ব, অর্থাৎ সরলরৈখিক দূরত্ব
এবং সরণের দিক প্রথম অবস্থানটি থেকে দ্বিতীয় অবস্থানটির দিকে। যদি বস্তুটি সর্পিল গতিতে প্রথম অবস্থান থেকেbদ্বিতীয় অবস্থানে যায়, তাহলে অতিক্রান্ত দূরত্ব সরণের থেকে দৈর্ঘ্যে বেশি। সরণকে s দ্বারা প্রকাশ করা হয়। (s, জার্মান শব্দ “Strecke” এর প্রথম letter নেয়া হয়েছে।
সরণ একটি ভেক্টর রাশি। তাই ভেক্টর যােগের নীতি মেনে দুটি সরণকে যােগ করা যায়। অর্থাৎ বিন্দু A থেকে বিন্দু তে প্রথম সরণ a ও বিন্দু B থেকে C-তে দ্বিতীয় সরণ b হলে, মােট সরণ
বিন্দু A থেকে বিন্দু C-তে সরণের সমতুল্য হবে এবং প্রথমে b ও পরে a পরিমাণ সরণ হলেও মােট সরণ একই হত।
- স্থির বল দ্বারা কৃত কাজ পরিমাপ করতে হবে।
পদার্থবিজ্ঞানে গতিশক্তি বলতে কোন বস্তু- এর গতির কারণে কাজ করার যে । সামর্থ্য লাভ করে, তা বােঝানাে হয়।[১] কোন বস্তুকে স্থির অবস্থা থেকে কোন । নির্দিষ্ট বেগে ত্বরিত করতে যে পরিমাণ কাজ করতে হয় তা দিয়ে এর গতিশক্তির
পরিমাপ করা হয়। এটিকে ত্বরিত করার সময় এই শক্তি অর্জন করলে, বস্তুটি যদি। বেগ পরিবর্তন না করে তাহলে ত্বরণের সময় অর্জিত এই গতিশক্তি অব্যাহত থাকে। বস্তুটিকে এর বর্তমান বেগ থেকে
পুনরায় স্থির অবস্থায় নেওয়ার জন্য মন্দনের ফলে একই পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- পরিবর্তনশীল বল দ্বারা কৃত কাজ পরিমাপ করতে হবে।
পরিবর্তনশীল বল : কোন বস্তুর উপর ক্রিয়াশীল বল তার ক্রিয়াকালে সর্বত্র ধ্রুব না থাকলে সে বলকে পরিবর্তনশীল বল বলে। স্প্রিং বল, মহাকর্ষ বল পরিবর্তনশীল বলের উদাহরণ।





Leave a Comment