মাধ্যমিক ৯ম শ্রেণির ভূগোল ১২শ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টের সমাধান ২০২১ | Secondary 9th class geography 1200 week assignment solution 2021


অধ্যায় ও অধ্যায়ের শিরােনাম : অধ্যায়- দ্বিতীয়: মহাবিশ্ব ও আমাদের পৃথিবী; 

পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত পাঠ নম্বর ও বিষয়বস্তু:
মহাকাশ ও মহাবিশ্ব; নক্ষত্র; নক্ষত্রমন্ডলী; গ্যালাক্সি; নীহারিক; চায়াপথ; উল্কা; ধুমকেতু; গ্রহ; উপগ্রহ; সৌরজগৎ; পৃথিবীর আকার-আকৃতি;
অক্ষরেখা,দ্রাগিমারেখা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রেখা সমূহ; আন্তরজাতিক তারিখ রেখা; প্রতিপাদ স্থান; পৃথিবীর গতি; আহ্নিক গতি; আহিক গতির ফল; বার্ষিক গতি; বার্ষিক গতির ফল; বার্ষিক গতির প্রমাণ; ঋতু পরিবর্তন; ঋতু পরিবর্তনের কারণ; ঋতু পরিবর্তন প্রভাব;

অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজ:
সূর্যকে পরিমণকালে পৃথিবীতে বায়ুগত তারতম্য
পরিলক্ষিত হয” অনধিক ৩০০ শব্দের মধ্যে একটি
প্রতিবেদন লিখ;
সংকেত:
১। সূচনা;
২। পৃথিবীর বার্ষিক গতি ও ঋতুপরিবর্তন প্রক্রিয়ার বর্ণনা;
৩। ঋতু পরিবর্তনের চিত্র;
৪। উপসংহার;
নির্দেশনা:
১। পাঠ্যপুস্তক থেকে হতু পরিবর্তন পড়তে হবে;
২। পৃথিবীর গতি সম্পর্কিত অন্যান্য বইযের সাহায্য নেয়া;
৩। ইন্টারনেটের সাহায্য নেয়া যেতে পারে;

মাধ্যমিক ৯ম শ্রেণির ভূগোল ১২শ সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্টের সমাধান ২০২১


তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর , ২০২১ খ্রি .
বরাবর , প্রধান শিক্ষক গাংনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মোল্লাহাট ।
বিষয় : সূর্যকে পরিমণকালে পৃথিবীতে বায়ুগত তারতম্য পরিলক্ষিত হয়” ।

জনাব,
বিনতি নিবেদন এই যে , আপনার আদেশ নং
বা.উ.বি.৩৫৫-১ তারিখ ১৩/৯/২০২১ অনুসারে
উপরােক্ত বিষয়ের উপর আমার স্বব্যখ্যাত
প্রতিবেদনটি নিন্মে পেশ করলাম ।

সূচনা:
পৃথিবী আমাদের আবসস্থল। পৃথিবীর চারদিকে ঘিরে রয়েছে অসীম মহাকাশ।সৈারজগতের কেন্দ্রে সূর্য রয়েছে। মহাকাশে এরূপ বহু নক্ষএ রয়েছে।পাশাপাশি চন্দ্র(উপগ্রহ), পৃথিবী (গ্রহ), ধুমকেতু, উল্কা,নীহারিকা প্রভৃতি রয়েছে । ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে আমাদের এই পৃথিবী, দূর-দূরান্তের সকল জ্যোতিষ্ক এবং দেখা না দেখা সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। এ অধ্যায়ে আমরা মহাকাশ, মহাবিশ্ব, সৌরজগৎ, পৃথিবী ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করব।


আমরা সবাই জানি পৃথিবী এবং সৌরজগতের
অন্যান্য গ্রহ সূর্যের চারপাশে ঘোরে। প্রতিটি গ্রহই দু’ভাবে ঘোরে, একটা তার নিজের অক্ষে, যেটাকে বলা হয় আহ্নিক গতি। পৃথিবীর এই আহ্নিক গতির কারণে দিন এবং রাত হয়।মপাশাপাশি পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। এই ঘোরাকে বলা হয় পৃথিবীর বার্ষিক গতি। সূর্যকে ঘুরে আসতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা। এই সময়কালকে এক বছর বা এক সৌর বছর বলে। পৃথিবীর এই বার্ষিক গতির কারণে ঋতু
পরিবর্তন হয়।

তোমরা হয়তো জান, পৃথিবীকে ঠিক মাঝখান
থেকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে একটি রেখার মাধ্যমে, যার নাম বিষুব রেখা। এই বিষুব রেখার একপাশের অংশকে বলা হয় দক্ষিণ গোলার্ধ, অন্যপাশকে বলে উত্তর গোলার্ধ। পৃথিবী যখন সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, তখন সূর্যের দিকে খানিকটা হেলে থাকে। পৃথিবী যেহেতু তার নিজ অক্ষেও ঘোরে, তাই বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ সূর্যের দিকে হেলে থাকে। এভাবে কখনো দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের কাছে চলে যায়, কখনো যায় উত্তর গোলার্ধ। যখন যে অংশ সূর্যের দিকে হেলে পড়ে তখন সে অংশ খাড়াভাবে বেশিক্ষণ ধরে সূর্যের আলো এবং তাপ পায়। আর তখন সেই অংশে বেশি গরম পড়ে, অর্থাৎ গ্রীষ্মকাল থাকে। একটা অংশ সূর্যের কাছে থাকা মানে তার উল্টো দিকের অংশটা থাকবে সূর্য থেকে দূরে। আর দূরে থাকলে কী হবে? সেই অংশটা কম তাপ এবং আলো পাবে। তখন সেই অংশে থাকবে শীতকাল।

কখনো খেয়াল করেছ বাংলাদেশে যখন গ্রীষ্মকাল থাকে, অস্ট্রেলিয়ায় তখন শীতকাল থাকে। আবার ওদের যখন গ্রীষ্ম থাকে, তখন আমাদের থাকে শীত। এবার বুঝেছ সেটা কেন হয়? কারণ অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ এবং বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধের দেশ। আর উত্তর গোলার্ধে যখন শীত থাকবে, দক্ষিণ গোলার্ধে থাকবে গরম। একইভাবে উত্তর গোলার্ধে গরম থাকলে দক্ষিণে থাকবে শীত।নবুঝেছ কীভাবে ঋতু পরিবর্তন হয়? এবার ভাবো তো, যদি পৃথিবী সূর্যের চারপাশে না ঘুরত, তবেনতো সবসময় একটা দেশে একটাই ঋতু থাকত। তখন কী হতো? ‘তখন কী হতো’- একথা যেন আমাদেরমভাবতে না হয় সেজন্যই পৃথিবী সারাক্ষণ সূর্যের চারপাশে এবং নিজের অক্ষে ঘুরে চলেছে। আর আমরাও পাচ্ছি ছয়টা ভিন্ন ভিন্ননঋতু।


পৃথিবী একটি নির্দিষ্ট গতিতে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ক্রমাগত পাক খেতে খেতে তার কক্ষপথ ধরে সূর্যের চারিদিকে আবর্তন করছে। এইভাবে একটি পূর্ণ আবর্তন সম্পন্ন করতে পৃথিবীর সময় লাগে 365 দিন 6 ঘণ্টা 56 মিনিট 54 সেকেন্ড। এইরূপ গতিকে বলা হয় পৃথিবীর বার্ষিক গতি।

একবার সূর্যকে পরিক্রমণ করতে পৃথিবীর সময়
লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।একে সৌরবছরবলে। ৪ বছরে একবার ফেব্রুয়ারি মাসকে একদিন বাড়িয়ে ২৯ দিন করা হয় এবং ঐ বছরটিকে ৩৬৬ ধরা হয়। সেই বছরকে লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষববলে।


আর্যভট্ট আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি প্রথম
আবিষ্কার করেন।পৃথিবী নিজ অক্ষের চারদিকে ঘুরছে এবং একই সঙ্গে উপবৃত্তাকার পথে একবার সূর্যের চারদিকে ঘুরে আসে। আপন কক্ষপথে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে পৃথিবীর এই পরিক্রমণকে বার্ষিক গতি বলে। পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলে ঋতু পরিবর্তন ঘটে এবং দিন-রাত্রি ছোট-বড় হয়। পৃথিবী সবসময়ই সূর্য থেকে আলো ও তাপ পেয়ে থাকে। তবে পৃথিবীর সব স্থান বছরের সব সময় সমান আলো ও তাপ পায় না।

এর কারণ পৃথিবী হেলানো অবস্থায় সূর্যের চারদিকে ঘোরে। হেলানো অবস্থায় সূর্যের চারদিকে ঘোরে বলে কখনো উত্তর মেরু সূর্যের কাছাকাছি আসে এবং দক্ষিণ মেরু দূরে সরে।যায়। আবার এক সময় এর ঠিক উল্টোটাও ঘটে।
আবার কখনো উত্তর মেরু সমান দূরত্বে থাকে। যখন পৃথিবীর যে অংশ সূর্যের কাছাকাছি থাকে তখন সে অংশ তাপ ও আলো বেশিক্ষণ ধরে পায়। ফলে পৃথিবীর সে অংশে দিন বড় ও রাত ছোট হয়।

আর তাপ বেশি পায় বলে সে সময়টা হয় সে
স্থানের জন্য গ্রীষ্মকাল। এর বিপরীত অংশে
তখন তাপ কম পায় বলে শীতকাল হয় এবং আলো কম পায় বলে রাত বড় হয়। বার্ষিক গতির কারণে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে ২১ জুন দিন সবচেয়ে বড় ও রাত সবচেয়ে ছোট হয়। ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে
থাকে বলে ওইদিন দক্ষিণ গোলার্ধে দিন সবচেয়ে বড় এবং রাত সবচেয়ে ছোট হয়।


প্রতিবেদকের নাম : নিজের নাম
প্রতিবেদনের ধরন : প্রাতিষ্ঠানিক
প্রতিবেদনের শিরোনাম : সূর্যকে পরিমণকালে পৃথিবীতে বায়ুগত তারতম্য পরিলক্ষিত হয়”
প্রতিবেদন তৈরির স্থান : নিজের স্থান
তারিখ : ১৩.০৯.২০২১ ইং

Leave a Comment