- বৈদ্যুতিক বল ও কুলম্বের
বৈদ্যুতিক বল : একটি আহিত স্থির বস্তুর নিকট অন্য একটি আহিত বস্তু আনলে বস্তু দুটির মধ্যে একটি বল কাজ করবে,
আহিত বস্তু দু’টি যদি সমধর্মী আধান অর্থাৎ দু’টি বস্তুই ধনাত্মক বা দুটি বস্তুই ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় তবে পরস্পরের মধ্যে বিকর্ষণ বল কাজ করবে, আবার আহিত বস্তু দু’টি বিপরীতধর্মী অর্থাৎ একটি বস্তু ধনাত্মক আধানে এবং অপর বস্তু ঋণাত্মক আধানে আহিত হয়
তবে পরস্পরের মধ্যে আকর্ষণ বল কাজ করবে, এ বিকর্ষণ বা আকর্ষণ বলকে তড়িৎ বল বলে। দু’টি আধানের মধ্যবর্তী এ আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান নির্ভর করে,
১. আধান দু’টির পরিমাণের উপর,
২. আধান দু’টির মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর,
৩. আধান দু’টি যে মাধ্যমে অবস্থিত তার প্রকৃতির উপর।
কুলম্ব হচ্ছে বৈদ্যুতিক আধান বা চার্জের একক। কুলম্ব কে ইংরেজি C অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা। বিজ্ঞানী চার্লস অগাস্টিন কুলম্ব এর নাম অনুসারে আধান বা চার্জের এককের নাম কুলম্ব দেওয়া হয়েছে।
কুলম্ব : কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে যদি 1 অ্যাম্পিয়ার তড়িৎ প্রবাহ 1 সেকেন্ড ধরে চালানো হয় তবে এর যেকোন প্রস্থচ্ছেদ দিয়ে যে পরিমাণ আধান বা চার্জ প্রবাহিত হবে তাকে 1 কুলম্ব বলে।
উপরের সংজ্ঞা থেকে বলা যায়, 1C = 1A × 1s
সুতরাং 5 কুলম্ব আধান বা চার্জ বলতে আমরা বুঝি, কোন পরিবাহীর মধ্য দিয়ে এক অ্যাম্পিয়ার প্রবাহ 5 সেকেন্ড ধরে চললে এর যেকোনো প্রস্থচ্ছেদ দিয়ে যে পরিমাণ আধান প্রবাহিত হয় তা 5 কুলম্ব।
কুলম্বের সূত্র
প্রথম সূত্র: সমধর্মী চার্জ পরস্পরকে বিকর্ষণ করে এবং বিপরীতধর্মী চার্জ পরস্পরকে আকর্ষণ করে
দ্বিতীয় সূত্র: কোন নির্দিষ্ট মাধ্যমে দুটি বিন্দু চার্জের এর মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান চার্জদ্বয়ের গুণফলের সমানুপাতিক, চার্জদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল চার্জদ্বয়ের সংযোগ সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।
কুলম্বের সূত্রের ব্যাখ্যা
কুলম্বের সূত্র হতে পাই, কোন নির্দিষ্ট মাধ্যমে দুটি বিন্দু চার্জের এর মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বা বিকর্ষণ বলের মান চার্জদ্বয়ের গুণফলের সমানুপাতিক, চার্জদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক এবং এই বল চার্জদ্বয়ের সংযোগ সরলরেখা বরাবর ক্রিয়া করে।
ব্যখ্যাঃ
ধরি, গোলকের A ও B বিন্দুতে অবস্থানরত দুটি চার্জের পরিমাণ যথাক্রমে q1 ও q2 এবং এদের মধ্যবর্তী দূরত্ব r.
এদের মধ্যে ক্রিয়াশীল আকর্ষণ বিকর্ষণ বলকে কুলম্ব বল বলে। এই বলের মান কে যদি F ধরা হয় তবে,
কুলম্বের সূত্র অনুসারে:
এখানে K একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক। ধ্রুবকটির মান রাশিগুলোর একক এবং আধানদ্বয়ের মুধ্যবর্তী মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। এ ধ্রুবককে কুলম্ব ধ্রুবক বলা হয়।




Leave a Comment