ভকেশনাল কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি (১) ১ম পত্র এসাইনমেন্ট ৪র্থ সপ্তাহের উত্তর ২০২১ | Vocational computer And Information Technology (1) 1st Paper Assignment 4th Week Answer 2021


অ্যাসাইনমেন্ট : ‘বিভিন্ন ধরণের মেমরিই হলো
কম্পিউটারের তথ্যভান্ডার’ -উক্তিটির বিশ্লেষণ ।

শিখনফল/বিষয়বস্তু :
কম্পিউটার মেমরি ও এর প্রকারভেদ
বিট, বাইট, কম্পিউটার ওয়ার্ড ও মেমরি ধারণ ক্ষমতা
প্রধান মেমরি ((RAM ও ROM)

নির্দেশনা (সংকেত/ ধাপ/ পরিধি):
কম্পিউটার মেমরি ও এর প্রকারভেদ বর্ণনা করতে হবে বিট, বাইট, কম্পিউটার ওয়ার্ড ও মেমরি ধারণ ক্ষমতা বর্ণনা করতে হবে
প্রধান মেমরি ((RAM ও ROM) বর্ণনা করতে হবে

উত্তর সমূহ:
কম্পিউটার মেমরি ও এর প্রকারভেদ বর্ণনা
করতে হবে
মেমোরি :
Memory শব্দের অর্থ হলো স্মৃতি শক্তি। অর্থাৎ যে শক্তির
দ্বারা কোন ডিভাইসে তথ্য ধরে রাখা যায় তাকে Memory বলে।
কম্পিউটারের এই স্মৃতি শক্তি হলো তেমনী একটি ডিভাইস যার
ভিতরে বিভিন্ন তথ্য ধরে রাখা যায়। এবং প্রয়োজনী মুহূর্তে
সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আবার ব্যবহার করা যায়।
কম্পিউটারে মেমোরি হিসাবে রম, হার্ডডিস্ক, সিডি,
ডিভিডি, প্রেনড্রাইভ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। মেমোরিতে
তথ্য ও উপাত্ত স্থায়ী ও অস্থায়ী ভাবে সংরক্ষণ করা যায়।
কম্পিউটারের মেমোরি কত
প্রকার:
কম্পিউটারে ব্যবহৃত মেমোরি বা মেমোরির কার্যপ্রণালীর
মূলনীতি, ভৌতিক বৈশিষ্ট ও মাইক্রো প্রসেসরের সাথে
সংযোগ, ব্যবহৃত মাধ্যম ও নির্মাণ কৌশলের উপর ভিত্তি করে
মেমোরিকে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। কম্পিউটারের
স্মৃতিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
কম্পিউটার মেমরির প্রকারভেদ
:
কম্পিউটারের মেমোরি প্রথমত দুই ধরণের হয়ে থাকে যথা-
প্রধান মেমোরি (Main Memory):
সহায়ক মেমোরি (Auxiliary Memory):
উদাহারণ :
১. চৌম্বক কোর মেমরি (Magnetic Core Memory),
২. পাতলা পর্দা মেমরি (Thin Film Memory),
৩. অর্ধ-পরিবাহী মেমরি (Semi Conductor Memory),
৪. চৌম্বক বাবল মেমরি (Magnetic Bubble Memory),
৫. চার্জ কাপলড মেমরি (Charge Coupled Memory) ইত্যাদি।
প্রধান মেমোরি (MAIN
MEMORY):
এটি একটি লিখন গঠন মেমোরি। যা কার্যের উপর ভিত্তি করে
কাজ করে। এই মেমোরিতে উপাত্ত সংরক্ষণ করা যায় এবং
পাঠও করা যায়। বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হলে এই মেমোরি হতে
উপাত্ত মুছে যায়। এধরনের মেমোরিকে Random Access Memory
বা র্যাম বলা হয়। কিছু মেমোরি হতে শুধু মাত্র উপাত্ত পড়া যায়
কিন্তু কিছু লিখা যায় না। বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হলেও এ মেমোরি
হতে উপাত্ত মুছে যায় না। এধানের মেমোরি কে Read Only
Memory বা রম বলা হয়। রমে সব সময় ডাটা সংরক্ষণ করা হয়।
প্রধান মেমোরি কাকে বলে :
যে মেমোরির সাথে সিপিইউ এর গাণিতিক ও যুক্তি অংশের
প্রত্যক্ষ সংযোগ থাকে সেই মেমোরিকে প্রধান মেমোরি বলা
হয়। প্রধান মেমোরিতে সে সব তথ্যই থাকে, যা সর্বদা প্রয়োজন
হয়। এটি একটি লিখন পাঠন মেমোরি। প্রকিৃয়া করণের জন্য
প্রোগ্রাম ও ডাটা স্মৃতিতে সংরক্ষণ করা হয়। এধারণের
মেমোরির কার্যবলি অত্যন্ত দ্রুতগতির হয়ে থাকে। এ মেমোরির
সঞ্চয় ক্ষমতা কম থাকে। প্রধান মেমোরিকে অভ্যান্তরীণ
মেমোরি ও বলা হয়।
ডিভাইসে প্রধান মেমোরি হলো চলমান প্রোগ্রাম, উপাত্ত,
হিসাব নিকাশের ফলাফল ইত্যাদি অস্থায়ী ভাবে সংরক্ষণ
করে। প্রসেসরের খুব কাছে থাকায় এবং সর্ম্পূণ ইলেকট্রনিক্স
পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় প্রধান মেমোরিতে উপাত্ত
সংরক্ষণ ও তা পঠানের গতি দূত হয়।
বিট, বাইট, কম্পিউটার ওয়ার্ড ও মেমরি
ধারণ ক্ষমতা বর্ণনা করতে হবে
মেমোরি পরিমাপের একক :
কম্পিউটারের কাজের প্রকৃতি ও গতির বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন
আকারের মেমোরি ব্যবহৃত হয়। মেমোরি পরিমাপের বিভিন্ন
একক ব্যবহৃত হয়। যেমন- বিট, বাইট, কিলোবাইট, মেগাবাইট,
গিগাবাইট ইত্যাদি।
(BIT) বিট :
বাইনারী সংখ্যা পদ্ধতিতে অংশ 0 এবং 1 কে বিট বলে।
ইংরেজি বাইনারী শব্দের Bi ও Digit শদের t নিয়ে Bit শব্দটি
গঠিত হয়েছে। এবং ডিজিটাল কম্পিউটারের মেশিন ভাষা
হলো বিট 0, 1 এক্ষেত্রে 0 নিয়ে নিম্ন ভোল্টেজ এবং 1 দিয়ে
হাই ভোল্টেজ নির্দেশ করে।
(BYTE) বাইট :
আট বিটে একবাইট হয়। এরুপ আট বিটের কোড দিয়ে যে কোন বর্ণ,
অংক বা বিশেষ চিহ্নকে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এরুপ 8 বিট
বিশিষ্ট শব্দকে বাইট বলা হয়। কম্পিউটারের মেমোরি
পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন এককের মধ্যে সর্ম্পক-
8 বিট = 1 বাইট
1024 বাইট =  1 কিলোবাইট
*1024 কিলোবাইট = 1 মেগাবাইট
1024 মেগাবাইট =  1 গিগাবাইট
*1024 গিগাবাইট =  1 টেরাবাইট
1024 টেরাবাইট =  1 হেক্সাবাইট
মেমোরির ধারণ ক্ষমতা :
কম্পিউটার মেমোরি বাইনারী ডিজিট বা শব্দ ধারণের
ক্ষমতাকে মেমোরি ধারণ ক্ষমতা বলা হয়। ধারণ ক্ষমতার
ক্ষুদ্রতম একক হল কিলোবাইট কিলোবাইটকে KB দ্বারা প্রকাশ
করা হয়। বর্তমানের হার্ডডিস্কের ধারণ ক্ষমতা 1024 গিগাবাইট
থেকে টেরাবাইট। বর্তমানের প্রেনড্রাইভের সর্বোচ্চ ধারণ
ক্ষমতা হলো 128 জিবি।

প্রধান মেমরি ((RAM ও ROM) বর্ণনা করতে
হবে
১. এটি একটি অস্থায়ী মেমরি।
২. চলমান প্রোগ্রাম ও পুনঃপুন পরিবর্তনশীল ডাটা এতে
সংরক্ষণ করা হয়।
৩. র্যামের চিপ নির্মাণের সময় এতে কিছু লিখে দেয়ার
প্রয়োজন হয় না।
৪. র্যামের কোষ নির্মাণে ফ্লিপ-ফ্লপ ব্যবহার করা হয়।
৫. বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হলে এতে সংরক্ষিত ডেটা সব মুছে যায়।
অর্থাৎ এটি উদ্বায়ী মেমরি।
৬. র্যামে সংরক্ষিত ডাটা বার বার পরিবর্তন করা যা।
৭. প্রসেসরের সাথে র্যামের সংযোগ সময় খুব কম।
(RAM) র্যাম:
মাদারবোর্ডর সাথে সরাসরি যুক্ত থেকে কম্পিউটারের
প্রোগ্রাম রানিং করলে অস্থায়ী ভাবে যে মেমোরিতে কোন
কাজ করা হয় তাকে র্যাম বলে। RAM অর্থ Random Access
Memory। কম্পিউটারে যতক্ষণ বিদ্যুৎ সরবারহ থাকে ততক্ষণ
Random Access Memory তে তথ্য সংরক্ষিত থাকে। বিদ্যুৎ
সরবারহ বন্ধ হয়ে গেলে র্যামে স্মৃতি মুছে যায়। তাই র্যামকে
অস্থায়ী মেমোরি হিসাবে অবহিত করা হয়। কম্পিউটার চালু
হবার সাথে সাথে এই এই মেমোরি রানিং প্রোগ্রামে কাজ
করে।
(ROM) রম:
রম হলো প্রধান মেমোরির স্থায়ী অংশ, যাতে সব সময় ডাটা
সংরক্ষণ করা যায়। কম্পিউটার তৈরী করার সময় এই স্মৃতিতে
কিছু প্রোগ্রাম রাখা হয় যাকে বলে অপারেটিং সিস্টেম
উইন্ডোজ। যা সবসময় ROM এ সংরক্ষিত থাকে। এ মেমোরি
থেকে যেকোন উপাত্ত পড়া যায়। কোন তথ্যের পরিবর্তন
পরিবর্ধন সংশোধন করা যায় না। এজন্য একে Read Only Memory
বলা হয়। কম্পিউটার বন্ধ করলেও এ মেমোরিতে স্মৃতি সংরক্ষিত
থাকে যেমন- হার্ডডিস্ক।

কম্পিউটার মেমরির প্রকারভেদ সম্পর্কে আরো কিছু জানার থাকলে আমাকে কমেন্ট করতে ভূলবে না। কম্পিউটারের প্রতিটা বিষয় ‍নিয়মিত আপনারদের কাছে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবো আশা করছি আপনারা আমার সাথে থাকবেন। আর লেখাটি ভালো লাগলে লাইক এবং শেয়ার করে আমাদের সাথেই থাকুন। 

Leave a Comment