এইচএসসি বিএম ২০২১ সালের ৮ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট ১২শ শ্রেণি মাকের্টিং নীতি ও প্রয়োগ ২ | Assignment of 8th week of HSC BM 2021 Class 12 Marketing Policy and Application 2


এসাইনমেন্ট শিরোনামঃ প্রসারমূলক কর্মসূচীতে বিজ্ঞাপন প্রণয়ন এর প্রধান পদক্ষেপ সমূহ এবং বিবেচ্য বিষয় সমূহ আলোচন।

শিখনফল/বিষয়বস্তু :

বিজ্ঞাপন এর ধারণা

বিজ্ঞাপনের উদ্দেশাবলী 

বিজ্ঞাপন কর্মসূচি প্রনয়নে পদক্ষেপ 

বিজ্ঞাপন মাধ্যম নির্বাচনে বিবেচনা বিষয় সমূহ

নির্দেশনা (সংকেত/ ধাপ/ পরিধি): 

বিজ্ঞাপন এর ধারণা বর্ণনা করতে হবে।

বিজ্ঞাপনের উদ্দেশাবলী বর্ণনা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন কর্মসূচি প্রণয়ন পদক্ষেপ বর্ণনা করতে হবে।

বিজ্ঞাপন মাধ্যম নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয় সমূহ বর্ণনা করতে হবে।

এইচএসসি বিএম ২০২১ সালের ৮ম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট ১২শ শ্রেণি মাকের্টিং নীতি ও প্রয়োগ ২ | Assignment of 8th week of HSC BM 2021 Class 12 Marketing Policy and Application 2

বিজ্ঞাপন এর ধারণা বর্ণনা করতে হবে

যে কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিসগুলোকে বিক্রি বা প্রমোট করার উদ্দেশ্যে প্রচার করার প্রক্রিয়াকেই বিজ্ঞাপন বলা হয়। যেমন-আপনি যখন ইউটিউবে কোন ভিডিও দেখেন তখন নানা ধরণের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে আমাদের অ্যাড দেখানো হয়।


 এছাড়া টিভিতে যেকোন সিরিয়াল বা ছবি দেখার সময় আমাদের কাছে বিভিন্ন কনসিউমার প্রোডাক্টস যেমন – ম্যাগি, টুথপেস্ট, অয়েল, কোলড্রিংস বা বিভিন্ন ব্র্যান্ড ইত্যাদি প্রোডাক্ট নিয়ে কিছু ম্যাসেজ প্রচার করা হয় এই সম্পূর্ণ প্রচার করার প্রক্রিয়াটি হল বিজ্ঞাপন।

তাছাড়া বিজ্ঞাপন হলো মার্কেটিংয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যার উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন পণ্য বা সার্ভিসগুলোকে জনগণের মাঝে প্রচার করে সেগুলো জনগণকে কেনাতে উৎসাহিত করা।

বিজ্ঞাপনের উদ্দেশাবলী বর্ণনা

বিজ্ঞাপন কি এ প্রশ্নের উত্তর থেকেই স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য কি। বিজ্ঞাপনের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো লাভ। এটা আর্থিকভাবে হতে পারে আবার জনমত তৈরীর মাধ্যমে সামাজিক বা রাজনৈতিক লাভও হতে পারে।

এক কথায় বলা যায়, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে করা লক্ষ্যবস্তু প্রচারের মাধ্যমে লক্ষ্যসমূহের আকর্ষণ গ্রহণ করা ও জনসাধারণের বিচার ধারণাগুলোকে প্রভাবিত করা, এটাই হলো বিজ্ঞাপনের মূল্য উদ্দেশ্য। এ প্রক্রিয়ায় দুটি পক্ষ রয়েছে। যথাঃ বিজ্ঞপ্তি কর্তা ও লক্ষ্য সমূহ

বিজ্ঞাপনে উদ্দেশ্য হলো এ দুজনের মাঝে সম্পর্ক তৈরি করা। তাদের লক্ষ্যের উপর নির্ভর করে বিজ্ঞাপনের তিনটি উদ্দেশ্য রয়েছে। যেমন- সূচনা প্রদান করা , প্রভাবিত করা , স্বীকৃতি তৈরি করা 

বিজ্ঞাপন হলো মূলত একটি সূচনা যা বিজ্ঞাপনদাতার দ্বারা লক্ষ্যসমূহগুলির কাছে প্রচার করা হয়। আর এ প্রচার করা বিজ্ঞাপনগুলো উপভোক্তাদের বিজ্ঞাপনের সাথে জড়িত প্রোডাক্ট, সার্ভিস বা বিষয়ের উপর নিজের বিচার তৈরি করতে সাহায্য করে।

বিজ্ঞাপন কর্মসূচি প্রণয়ন পদক্ষেপ বর্ণনা

বিজ্ঞাপন একটি প্রক্রিয়াভিত্তিক কাজ। নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিজ্ঞাপনের কাজ নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে। বিজ্ঞাপনদাতা এবং বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যের উপর বিজ্ঞাপনের কার্যাবলী নির্ভর করে। নিম্নে এর কার্যাবলী সম্পর্কে আলোচনা করা হল

১. প্রতিযোগীদের থেকে পণ্যকে পৃথকভাবে তুলে ধরা : প্রতিযোগী পণ্যের চেয়ে পণ্যটি পার্থক্যসূচক এ ধরণের বক্তব্য তুলে ধরা বিজ্ঞাপনের অন্যতম কাজ। প্রতিযোগী পণ্য অপেক্ষা মান উন্নত এবং বৈশিষ্ট্যও ভিন্নরূপ – এরূপ বক্তব্যের মাধ্যমে পার্থক্যসূচক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞাপন আকর্ষণীয় ও আবেদনময়ী হলে পণ্যটিকে পার্থক্যসূচক করা সহজ হয়।

২. পণ্য ও ব্র্যান্ডের তথ্য উপস্থাপন : পণ্য ও ব্র্যান্ড সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য বিজ্ঞাপণের মাধ্যমে জনগণের নিকট উপস্থাপন করা হয়। পণ্য ও ব্র্যান্ড ব্যবহারের পদ্ধতি ও উপযোগিতা যাচাই, ব্যবহারের সুবিধা, পণ্যের প্রাপ্তিস্থান, মূল্য, ডিজাইন বা মোড়ক পরিবর্তন অথবা নতুন পণ্য বা ব্র্যান্ড প্রবর্তন ইত্যাদি তথ্য বিজ্ঞাপণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।

৩. পণ্য ব্যবহারে প্ররোচিত করা : বিক্রয় বৃদ্ধি বিজ্ঞাপণের অন্যতম উদ্দেশ্য এজন্য চোখ জুড়ানো নকসা, আকর্ষণীয় রং এবং মন মাতানো ভাষা ব্যবহার করে সম্ভাব্য ক্রেতাদেরকে পণ্য ক্রয়ে প্ররোচিত করা হয়। তাছাড়া পণ্য সম্পর্কে পুনঃ পনঃ স্মরন করানোর প্রয়োজন, যা বিজ্ঞাপণের অন্যতম কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।


 
৪. পণ্যের বন্টন সম্প্রসারণ : বিজ্ঞাপণ প্রচারের ফলে পণ্যের চাহিদা সৃষ্টি হয়। ব্যাপক জনগণের কাছে পণ্য পৌছানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের মধ্যস্থব্যবসায়ীর সহায়তা নিতে হয় অথবা নিজস্ব বন্টন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করতে হয়।

৫. ব্র্যান্ড অগ্রাধিকার ও আনুগত্য বৃদ্ধি : বাজারে প্রতিযোগীর সংখ্যা অনেক হলে নির্দিষ্ট ব্রান্ডের প্রতি অগ্রাধিকার সৃষ্টি ও ক্রতার আনুগত্য বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হয়। এক্ষেত্রে বিজ্ঞাপণ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। বিজ্ঞাপণের মাধ্যমে পণ্য সর্ম্পকে প্রতিনিয়ত সম্ভাব্য ক্রেতাদেরকে অবগত করাও পণ্যের বিশেষ গুনাবলি তুলে ধরার ফলে ক্রেতার ব্রান্ড অগ্রাধিকার ও আনুগত্য বৃদ্ধি পায়।

৬. সামগ্রিকভাবে বিক্রয়-ব্যয় হ্রাস : মার্কেটিং প্রমোশনের অন্যান্য পন্থার তুলনায় কম খরচের ব্যাপক জনগণের নিকট পণ্যের সংবাদ বিজ্ঞাপণের মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে অন্যান্য মাধ্যমের ব্যয় তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি। তাছাড়া বিজ্ঞাপণের কার্যকারিতা অনেক বেশি হত্তয়ায় বিক্রয় বৃদ্ধি পায়। ফলে সামগ্রিকভাবে বিক্রয়-ব্যয় হ্রাস পায়।

৭. আন্তর্জাতিকত বাজার সম্প্রসারণ : বিদেশের বাজারে পণ্য বিপণনে বিজ্ঞাপণ অত্যন্ত কার্যকরী উপাদান। যেমন-আজকাল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো স্থান থেকেই পণ্যের সংবাদ পাওয়া যায়। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পণ্য বিপণনে বিজ্ঞাপণ বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৮. প্রাতিষ্ঠানিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন : জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎসব অথবা কোম্পানির বিশিষ্ট কোন ব্যক্তির আগমণ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জ্ঞাপনমূলক বিজ্ঞাপণ প্রদান করা হয়। যেমনবাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কোম্পানির পক্ষে জনগণকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন উপলক্ষে সংবাদ প্রচার।

৯. প্রত্যাশিত পণ্য প্রাপ্তিতে ভূমিকা : উৎপাদক বা বিপণনকারীরা নিজ নিজ পণ্যের সংবাদ ক্রেতাদের নিকট তুলে ধরার জন্য বিজ্ঞাপন প্রদান করে থাকে। বিজ্ঞাপণগুলোতে পণ্য সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করা হয়। ফলে ক্রেতারা বিভিন্ন পণ্যের মধ্য হতে প্রয়োজনীয় পণ্য পছন্দ করতে পারে।

বিজ্ঞাপন মাধ্যম নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয় সমূহ বর্ণনা

বিজ্ঞাপন মাধ্যম নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়সমূহ : একজন ব্যবসায়ীর পক্ষে সবগুলো মাধ্যম একই সাথে ব্যবহার করা যেমন অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সম্ভব নয়, তেমনি একটি পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য সব মাধ্যমের ব্যবহার কার্যকর নাও হতে পারে। আবার শুধুমাত্র একটি মাধ্যমও সমস্ত সম্ভাব্য গ্রাহকের আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট নয়। গ্রাহকদের অভ্যাস-রুচিতে এত বেশি তারতম্য পরিলক্ষিত হয় যা বিজ্ঞাপন অভিযানে একাধিক মাধ্যম ব্যবহার প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। কোন্ বিজ্ঞাপনের জন্য কোন মাধ্যমটি সবোত্তম হবে তা বলা অত্যন্ত কঠিন। কারণ বিজ্ঞাপনের মাধ্যম নির্বাচনে পারিপার্শ্বিকতার বিষয়টি ছাড়াও অনেকগুলো বিষয় প্রভাব বিস্তার করে।
সেগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ
১. পণ্যের প্রকৃতি : কোন্ প্রকারের মাধ্যম পণ্যের প্রচারের জন্য শ্রেয় হবে তা পণ্যের প্রকৃতির উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই দেখা যায়, ভোগ্যপণ্য সাধারণত সংবাদপত্র, সাময়িকী, রেডিও, টেলিভিশনে এবং উৎপাদনশীল পণ্য বিশেষ সাময়িকী, টেকনিক্যাল জার্নাল, এবং প্রত্যক্ষ ডাক মারফত বিজ্ঞাপিত হয়। সব রকমের পণ্যের জন্য সব মাধ্যম উপযোগীও নয়। যেমন, সাবান বা লবণের বিজ্ঞাপন টেলিভিশন বা সংবাদপত্রে দেওয়া হয়। আবার তৈরি পোশাকের কাঁচামালের বিজ্ঞাপন ব্যবসায় সম্পর্কিত সাময়িকী বা ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়।

২. বাজারের সম্ভাব্যতা : সম্ভাব্য বাজারের বৈশিষ্ট্যও বিজ্ঞাপনের মাধ্যম নির্বাচন প্রভাবিত করে। মাধ্যম নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পণ্যের সম্ভাব্য ব্যবহাকারীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা। পণ্যের বাজার নির্দিষ্ট স্থানে বা নির্দিষ্ট শ্রেণীর ভোক্তাদের মধ্যে সীমিত হলে মাধ্যম নির্বাচন ততটা জটিল মনে হয় না। পক্ষান্তরে বাজারের পরিধি বিস্তৃততর হলে, বিভিন্ন শ্রেণীর ভোক্তার মধ্যে পণ্যের চাহিদা থাকার সম্ভাবনা থাকলে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম নির্বাচনে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা বাঞ্জনীয়।

৩. বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য : বিপণনকারীর জন্য পণ্য প্রচারের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম নির্বাচনে বিজ্ঞাপনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কি তা বিবেচনায় রাখতে হয়। যেমন ধরুন, বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য যদি হয় ভোক্তাদের মধ্যে তাৎক্ষণিক বিক্রয় বৃদ্ধি, তাহলে টেলিভিশন বা রেডিও হলো উপযুক্ত মাধ্যম। আর বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য যদি হয় ডিলারদের সহযোগিতা কামনা করা, তবে ট্রেড জার্নাল ও বিশেষ ডাক হবে কার্যকর পন্থা। নতুন পণ্যের প্রবর্তন কিংবা পুরনো পণ্যের চাহিদা সৃষ্টির সাথেও বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য সম্পর্কযুক্ত হতে পারে। ফলে উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিজ্ঞাপন মাধ্যমের তারতম্য ঘটতে পারে।
৪. বিক্রয়ের আবেদনের প্রকারভেদ : বিজ্ঞাপনের জন্য কোন প্রকার মাধ্যম ব্যবহার করা সঙ্গত তা নির্ধারণের জন্য বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য বা আবেদনের প্রকৃতি ও প্রকারভেদ বিবেচনা করা অত্যাবশ্যক। উদাহরণস্বরূপ, যদি এরূপ বিশ্বাস করা হয় যে, পণ্য বিজ্ঞাপনের কার্যকারিতায় মনোহর রঙিন চিত্র গুরুত্বপূর্ণ, তবে মাধ্যম হিসেবে সাময়িকী হবে প্রথম পছন্দ। কারণ সংবাদপত্রের চেয়ে সাময়িকীতে অনেক বেশি দক্ষতর ও সুন্দরতর উপায়ে বিজ্ঞাপনকে আকর্ষণীয় করে তোলা যায়।

৫. মাধ্যমের প্রচলন : যে মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করার জন্য চিন্তা-ভাবনা করা হয় সে মাধ্যমটির প্রচলন কিরূপ তা বিবেচনা করে দেখতে হবে। পণ্যের বন্টন প্যার্টানের সাথে মাধ্যমের প্রচলন সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। স্বল্পতম অপচয়ে, অধিক সংখ্যক সম্ভাব্য ক্রেতার নিকট পণ্য-সংবাদ পৌঁছাতে পারে এমন মাধ্যম নির্বাচন করা প্রয়োজন। উদাহরস্বরূপ, প্রসাধনী সামগ্রীর প্রস্তুতকারকের অভীষ্ট ভোক্তা যদি মহিলা হয়ে থাকে, তাহলে এমন পত্রিকা বা সাময়িকীতে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে যেগুলো মহিলারা পড়ে থাকে।

৬. বিজ্ঞাপন মাধ্যমসমূহের ব্যয়: বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে উপযুক্ত মাধ্যম নির্বাচনের সময় একেক মাধ্যম ব্যবহার করলে কিরূপ খরচ হতে পারে তা বিবেচনা করা অবশ্যই প্রয়োজনীয়। কারণ সব মাধ্যমের ব্যয় একরূপ নয়। কোন মাধ্যমের ব্যয় অনেক বেশি আবার কোন মাধ্যমের ব্যয় কম হতে পারে। রেডিও এবং টেলিভিশনে সেকেন্ডের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপনের জন্য যে রেইটটি চার্জ করা হয় তা সংবাদপত্রে প্রতি কলামের আয়তনের ভিত্তিতে ধার্যকৃত রেইট থেকে অনেক বেশি। তাই যেসব বিজ্ঞাপকের পক্ষে ব্যয়বহুল মাধ্যম ব্যবহার সম্ভব তারা সেগুলো ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু যাদের বিজ্ঞাপন খাতে সংরক্ষিত তহবিল একটি বিশেষ মাধ্যম ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট নয় তাদের সে মাধ্যম পরিহার করা উচিত।

৭. প্রাপ্তব্য বাজেট : বিজ্ঞাপনের মাধ্যম নির্বাচনে বিজ্ঞাপনের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে। মাধ্যম পছন্দ করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, বিজ্ঞাপন বাবদ যে বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে তা বিশেষ একটি মাধ্যম ব্যবহারের জন্য যথোপযুক্ত কিনা।

৮. গ্রাহকদের শিক্ষার মান : ক্রেতার শিক্ষার মানের উপর বিজ্ঞাপনের মাধ্যম নির্বাচন বহুলাংশে নির্ভরশীল। বাংলাদেশের জনসাধারণকে আমরা শিক্ষার মান অনুযায়ী তিন শ্রেণীতে ভাগ করতে পারি- নিরক্ষর, অক্ষরজ্ঞান বিশিষ্ট বা আধা- শিক্ষিত এবং উচ্চ শিক্ষিত। নিরক্ষর/অশিক্ষিত লোকদের নিকট পণ্য সংবাদ পৌঁছানোর জন্য লিখিত কোন মাধ্যম (সংবাদপত্র, সাময়িকী, ইস্তাহার, প্রচারপত্র ইত্যাদি) ব্যবহার সম্পূর্ণ অর্থহীন। তাদের জন্য রেডিও টেলিভিশন বা চিহ্নবিশিষ্ট অর্থময় সাইনবোর্ড বিশেষ উপযোগী। তাই বিজ্ঞাপনের মাধ্যম নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য গ্রাহকদের শিক্ষার মান বিবেচনায় রাখা উচিত।


Leave a Comment