পারিবারিক জীবনে যে কোন পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা অর্জন সম্পর্কে ব্যাখ্যা। ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের গৃহ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন বিষয়ের ষষ্ঠ সপ্তাহের নমুনা উত্তর ।
এইচএসসি ২০২১ গৃহ ব্যবস্থাপনা ৬ষ্ঠ সপ্তাহের এসাইনমেন্ট উত্তর|HSC 2021 Home Management 6th Week Assignment Answer



অ্যাসাইনমেন্ট: পারিবারিক জীবনে যে কোন পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা অর্জন সম্পর্কে ব্যাখ্যা।

পারিবারিক জীবনে যেকোনো অবস্থায় নিজেকে খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা অর্জন

ক) পারিবারিক জীবন চক্রের ধাপ বর্ণনা 

প্রতিটি পরিবার একটি সামাজিক ব্যবস্থা, যা আমাদের চারপাশের জগতের সাথে সর্বদা যোগাযোগের মধ্যে থাকে। পরিবারটি তার কার্যকারিতা বজায় রাখবে যখন এটি মৌলিক আইনগুলির অধীন হবে, যা নিঃসন্দেহে লিঙ্ক করা হয়: আইনটি পরিবার স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং তার উন্নয়ন আইনের সংরক্ষণের লক্ষ্যে। এটা মনে রাখতে হবে না যে পরিবারটির জীবনচক্রটি পর্যায়ক্রমে এবং পর্যায়ক্রমে তার পর্যায় পরিবর্তন করে।

পারিবারিক জীবন চক্রের ধাপ 

১. প্রীতির পর্যায়

২. শিশু ছাড়া বসবাস

৩. তিড়িং এর স্তর (শিশুদের চেহারা)

৪. একটি পরিপক্ক বিবাহ।

৫. মঞ্চে শিশুরা ঘর ছেড়ে চলে যায়।

৬. “খালি বাসা”

৭. একটি অংশীদারের মৃত্যুর পর স্বামীদের মধ্যে একজন একাই রয়ে যায় এমন চূড়ান্ত পর্যায়ে।


(সকল এসাইনমেন্ট সমাধান সবচেয়ে দ্রুত পেতে ভিজিট করুন uipoka.com )


খ) বিকাশমূলক কার্যক্রমের ব্যাখ্যা 

বিকাশ হচ্ছে শিশুর গুণগত পরিবর্তন যা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে এবং আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। শিশুদীর্ঘদিন যাবৎ ক্রমান্বয়ে শুধু দৈর্ঘ্যে এবং ওজনে বাড়ে না সঙ্গে সঙ্গে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কিছুক্ষমতাও অর্জন করেছে। যে ছোট হাতটি নিয়ে সে একাকী দোলনায় খেলত ৫ বছর বয়সে, ঐ হাত দিয়েই সে লিখতে পারছে, ১৫ বছর বয়সে ক্রিকেট খেলে ঐ হাত দিয়েই। তাহলে দেখা যাচ্ছে হাতটি শুধু দৈর্ঘ্যইে বাড়েনি তার গুণগত মানেও পরিবর্তন হয়েছে। ৩ মাস বয়সে ঐ হাত দিয়ে সে যা করতে পারতো না এখন তা করতে পারছে। যেমন- লিখতে পারছে অথবা ক্রিকেট খেলতে পারছে। এটিই গুণগত পরিবর্তন যাকে আমরা বলতে পারি বিকাশ।

একটি শিশুযখন পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে তখন শিশুটি অসহায় এবং পরনির্ভরশীল থাকে। জীবন পরিক্রমায় শিশুবড় হয়। ধীরে ধীরে শিশুর বয়স বাড়তে থাকে, সে একজন পরিপূর্ণ মানুষ উঠে। শিশুবড় হয়ে উঠার সময় প্রতিনিয়ত তার দেহের ওজন ও উচ্চতার বৃদ্ধি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বৃদ্ধি, তার বুদ্ধিমত্তার বিকাশ, আচার-আচরণ, বাচনভঙ্গির পরিবর্তন দেখা যায়। এই পরিবর্তনগুলো নির্দিষ্ট সময়ে লক্ষ্য করা যায়; যেমন- শিশুরা ৫/৬ মাস বয়সে অন্যের সাহায্যে বসতে পারে, ৮ মাসে হামাগুঁড়ি দিতে পারে, ১০/১১ মাসে ধরে ধরে হাঁটা এবং ১৫ মাসে স্বাধীনভাবে হাঁটতে পারে। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে শিশুর দেহ দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও ওজনে বাড়েনি, সঙ্গে সঙ্গে তার গুণগত মানের পরিবর্তন হচ্ছে বা শিশুরা ধাপে ধাপে কিছুকিছু পারদর্শিতা অর্জন করছে। শিশুর ধাপে ধাপে এই পারদর্শিতা অর্জন করা হল বিকাশমূলক কাজের লক্ষণ।  শিশুধাপে ধাপে এই দক্ষতা অর্জন না করতে পারলে, পরবর্তী ধাপে উপযুক্ত আচরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে প্রত্যেক শিশুর নিজস্ব একটা স্বকীয়তা আছে। জীবনের প্রতিটি স্তরে বিকাশ সম্পর্কে সমাজের নির্দিষ্ট প্রত্যাশা থাকে। বিকাশের বিভিন্ন স্তরে সামাজিক প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজকেই বিকাশমূলক কার্যক্রম বলা হয়। বিকাশমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকলে যে সুবিধাগুলো হয় তা হলো বিকাশমূলক কার্যক্রম জানলে বয়স অনুযায়ী সঠিক আচরণ করা সহজ হয়। বাবা-মা বা শিশুর পরিচালনাকারী বয়সানুযায়ী শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ জানতে পারেন এবং সেভাবে শিশুর সামাজিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করতে পারেন।

বিকাশমূলক কার্যক্রম সামাজিক প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করতে পূর্বপ্রস্তুতি ও প্রেরণা দেয়। এতে বিকাশের প্রতি স্তরে খাপ খাওয়ানো সহজ হয়। শিশুকাল অবস্থা থেকে বয়ঃপ্রাপ্তি পর্যন্ত বিকাশের কয়েকটি স্তর আমরা দেখতে পাই। এদের প্রত্যেকটি ধাপেরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং স্বতন্ত্রতা রয়েছে। তাই তাদের বিকাশমূলক কার্যক্রম বিভন্ন স্তরের জন্য বিভিন্ন রকম।


(সকল এসাইনমেন্ট সমাধান সবচেয়ে দ্রুত পেতে ভিজিট করুন uipoka.com )



গ) অবসর জীবনের পরিবারের বৈশিষ্ট্য ও বিকাশমূলক কার্যক্রম বিশ্লেষণ 

অবসর জীবনে পরিবারের বৈশিষ্ট্য 

সদস্য সংখ্যা: অবসার জীবনে পরিবারের সদস্য সংখ্যা সব সময় যে নির্দিষ্ট সংখ্যক হতে হবে তা নয়। স্বামী-স্ত্রী নিয়ে সংসার গঠিত হয়। অবসর জীবনে এখানে সন্তান থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে।

সামাজিক একক: পরিবার সমাজের একক। সমাজ বহু পরিবারের সমষ্টি। পরিবারের বিস্তৃতি বহুবিধ সামাজিক সংগঠনের কাঠামো রচনা করে। অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের মূল কেন্দ্র হলো পরিবার।

নৈতিক মূল্যবোধ: অবসার জীবনে পরিবারে স্নেহ, মায়া-মমতা, ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ এবং নৈতিক মূল্যবোধ ও নির্মল চরিত্র গঠন পরিবারের অন্যতম ভিত্তি।

সর্বজনীনতা: পরিবারের অস্তিত্ব সার্বজনীন। মানব সভ্যতার বিকাশের প্রতিটি পর্যায়ে পরিবারের অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয়। মানুষ মাত্রই পারিবারিক জীবনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এক কথায়, পরিবার হলো মানুষের সমাজবদ্ধ জীবনের সার্বজনীন রূপ। 

গঠনমূলক প্রভাব: জন্ম থেকে শুরু করে অবসর-জীবন পর্যন্ত মানুষ পারিবারিক পরিবেশে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে এবং মানুষের জীবনের, ওপর পরিবারের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এভাবে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একটি গঠনমূলক মনোভাব গড়ে ওঠে এবং তাদের জীবনের সবক্ষেত্রে এই গঠনমূলক মনোভাবের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এতে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়। এর মাধ্যমে পরিবারের শিশুদের চরিত্র গঠন হয়।

আবেগীয় ভিত্তি: অবসর জীবনে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মায়া-মমতা, ভালোবাসা ইত্যাদি আবেগীয় সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। তারা একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে থাকে।

পারিবারিক বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতা: অবসর জীবনে পরিবার গঠনের জন্য পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য ও বিশ্বাস থাকা অপরিহার্য। পারস্পরিক বিশ্বাস যত মজবুত হয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতা ও সহযোগিতা তত বেশি বৃদ্ধি পায়। পরিবারের সদস্যরা একে অপরের ওপর দায়িত্ব ও কর্তব্যের জন্য নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতাই তাদের মধ্যে পারস্পরিক স্নেহের বন্ধন ও সহনশীলতা সৃষ্টি করে।

কার্যবন্টন: একটি আদর্শ পরিবারের বিশেষ কাজ প্রতিটি সদস্যদের মধ্যে কর্মক্ষমতা অনুযায়ী কাজ সুষ্ঠুভাবে ভাগ করে দেওয়া। এতে পরিবারের সংহতি বাড়ে এবং প্রত্যেকে দায়িত্ববান হয়।

অর্থনৈতিক একক: প্রতিটি পরিবার একটি অর্থনৈতিক একক হিসেবে কাজ করে। প্রতিটি পরিবারেই আয় ও ভোগের নির্দিষ্ট কতগুলো খাত থাকে।

ধর্মীয় বিশ্বাস: নাবালক থেকে অবসর জীবন পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাস বিরাজ করে। সাধারণত একটি পরিবারের সকল সদস্যই একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাসের অনুসারী হয়।


(সকল এসাইনমেন্ট সমাধান সবচেয়ে দ্রুত পেতে ভিজিট করুন uipoka.com )



বিকাশমূলক কার্যক্রম বিশ্লেষণ 

অতি শৈশব ও প্রারম্ভিক শৈশবের বিকাশমূলক কার্যক্রম

১। হাঁটতে শেখা: বেশিরভাগ শিশুই ১২-১৫ মাসের মধ্যে হাঁটতে পারার শারীরিক যোগ্যতা অর্জন করে।

২। শক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে শেখা: দুই বছর বয়সের মধ্যে শিশুর পরিপাক ব্যবস্থা শক্ত খাবার হজম করার ক্ষমতা অর্জন করে। এছাড়া দুধ খাওয়া বন্ধ করে তারা দুধের বদলে পরিপূরক খাবার গ্রহণ করার ক্ষমতা অর্জন করে।

৩। কথা বলতে শেখা: জন্মের প্রথম কয়েক মাসের মধ্যেই কান্না ছাড়াও অন্য শব্দ আবির্ভূত হয়। শিশু ৬ মাসের মধ্যে অর্থহীন শব্দ করে। ৩ বছরে দুই বা তিন শব্দের বাক্য বলে। ৫ বছরের মধ্যে বহু শব্দের ব্যবহারে পূর্ণ বাক্য বলে।

৪। মলমূত্র ত্যাগের নিয়ন্ত্রণ শেখা: দুই বছরের মধ্যে মল-মূত্র ত্যাগের স্থান ও সময় নির্দিষ্ট হয়। বয়স্কদের সমঝোতাপূর্ণ দৃঢ়তা, প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ জ্ঞানই শিশুদের এই বিকাশমূলক কার্যক্রম রপ্ত করতে সাহায্য করতে পারে।

৫। পড়তে শেখা: ৫-৬ বছর বয়সের শিশুদের পড়তে শেখার ক্ষমতা সমাজের একটি প্রত্যাশিত আচরণ। তারা শারীরিকভাবে যেমন প্রস্তুত থাকে তেমনি মানসিকভাবেও তারা পড়তে চায়।

৬। শরীরবৃত্তীয় দক্ষতা অর্জন: ৫ বছরের মধ্যে দেহের তাপ, বিপাক ক্রিয়ায় ভারসাম্য এবং শারীরিক গঠনে দৃঢ়তা আসে। যার কারণে অল্পতেই অসুস্থ হওয়ার আশংকা কমে যায়।

৭। সঠিক ও ভুলের পার্থক্য করতে শেখা: শৈশবের প্রথম দিকে বাবা-মা যে কাজকে পুরস্কৃত করেন বা ভালো বলেন- সেটাই ভালো কাজ এবং যে কাজ করতে নিষেধ করেন সেটাই খারাপ কাজ, এভাবে ভালো মন্দের ধারণা তৈরি হয়।


(সকল এসাইনমেন্ট সমাধান সবচেয়ে দ্রুত পেতে ভিজিট করুন uipoka.com )



মধ্য শৈশবের বিকাশমূলক কার্যক্রম

১। সমবয়সীদের সাথে সঠিক আচরণ করতে শেখা: এই বয়সকে দলীয় বয়স বলা হয়। সমবয়সী দলে মিশে তারা সামাজিক আদান-প্রদান, ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করা ইত্যাদি শেখে।

২। সাধারণ খেলাধুলার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক দক্ষতা শেখা: সঠিকভাবে কোনো কিছুছুড়তে, ধরতে পারা, বল সঠিকভাবে লাথি মারা ইত্যাদি কৌশলগুলো শেখার শারীরিক যোগ্যতা অর্জন করে।

৩। ছেলে ও মেয়ে অনুযায়ী সামাজিক ভূমিকা শেখা: ছেলে বাবার ভ‚মিকা এবং মেয়ে মায়ের ভূমিকা অনুকরণ থেকেই লিঙ্গ অনুযায়ী ভূমিকা শেখে।

৪। পড়ালেখা ও গণনার মূল কৌশল আয়ত্ত করা: ৬ বছরের আগে স্নায়ু, আঙ্গুলের পেশি লেখার উপযোগী হয় না। দৈহিক যোগ্যতা অর্জনের পর বয়ঃবৃদ্ধির সাথে সাথে শিশুর পড়া ও লেখার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

৫। দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় বস্তু সম্পর্কে ধারণার বিকাশ: স্কুলে যাওয়ার পর থেকে শিশুনানা বিষয় সম্পর্কে ধারণা পায়। যেমন- সময় এর ধারণা, দূরত্ব, ওজন ইত্যাদি বিষয়গুলো বুঝতে পারে। এই ধারণাগুলো থেকেই তাদের চিন্তা করার সূত্রপাত ঘটে।

বয়ঃসন্ধি বা কৈশোরের বিকাশমূলক কার্যক্রম 

১। পরিণত আচরণ: ছেলে মেয়ে উভয় লিঙ্গের সাথে পরিণত আচরণ করতে পারা।

২। বাবা-মা ও অন্যের উপর থেকে আবেগীয় নির্ভরশীলতা কমানো: শৈশবের নির্ভরশীলতা বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই কমতে থাকে। তারা আত্মনির্ভরশীল হয়। অনেক সময় বাবা-মায়ের স্নেহ-ভালোবাসাকে তারা বাড়াবাড়ি মনে করে। তাদের মধ্যে স্বাধীনতার চাহিদা থাকে।

৩। বৃত্তি নির্বাচন ও পেশার জন্য প্রস্তুতি: কৈশোরের নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার আলোকে পেশার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় এবং তা হয় বাস্তবধর্মী।

৪। সামাজিকভাবে দায়িত্বপূর্ণ আচরণ গ্রহণের আগ্রহ: নিজ আচরণের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের আগ্রহ এ সময়ের অন্যতম প্রধান বিকাশমূলক কাজ।

৫। নৈতিকতা অর্জন: এ সময়ের মধ্যে ছেলেমেয়েদের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়ের নিজস্ব ধারণা তৈরি হয়।


(সকল এসাইনমেন্ট সমাধান সবচেয়ে দ্রুত পেতে ভিজিট করুন uipoka.com )


ঘ) পারিবারিক জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর দক্ষতা অর্জন সম্বন্ধে ব্যাখ্যা 

পারিবারিক জীবনে যে কোনো পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়ানোর জন্য নিম্নোক্ত দশটি দক্ষতা অর্জন করা উচিতঃ-

১. আত্মসচেতনতা: নিজ সবলতা ও দুর্বলতা, গুণাবলী ও ত্রæটিসমূহ, দায়িত্ব ও কর্তব্য, অধিকার ও মূল্যবোধ বিষয়ে সুস্পষ্ট ও সঠিক ধারণা সৃষ্টির সামর্থ্য। গুণাবলি উন্নয়ন ও ত্রুটি সমূহ দূরীকরণে সচেতনতা। আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাবোধ সৃষ্টি ও বৃদ্ধির সামর্থ্য।

২. সহমর্মিতা: ভিন্ন শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক অবস্থার মানুষের অবস্থা ও চাহিদা যথাযথভাবে বোঝা, তার কথা শোনা এবং তার প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনে সক্ষমতা।

৩. আন্তব্যক্তিক দক্ষতা: সম্পর্ক স্থাপন করা, বজায় রাখা ও উন্নয়নের সামর্থ্য। সম্পর্ক ছেদ করতে হলে তা করার সক্ষমতা। নিজের যুক্তিসংগত মত প্রতিষ্ঠা করা, অন্যায় ও অনাকাঙ্খিত চাপ প্রত্যাখ্যান করা, অন্যকে ভাল কাজ করার এবং মন্দ কাজ করা থেকে বিরত রাখতে প্রভাবিত করার সামর্থ্য।

৪. যোগাযোগ দক্ষতা: নিজেকে সঠিকভাবে প্রকাশ করার ক্ষমতা। অন্যের কথা মনোযোগের সাথে এবং সক্রিয়ভাবে শোনার দক্ষতা। অন্যকে দোষারোপ না করে এবং অন্যের মনে কষ্ট না দিয়ে কথা বলার সক্ষমতা।

৫. বিশ্লেষণমূলক চিন্তন দক্ষতা: প্রভাব তথ্য ও পরিস্থিতি, বিজ্ঞাপন, বিবৃতি ইত্যাদি বস্তুনিষ্ঠভাবে বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করার দক্ষতা। বিশ্লেষণলব্ধ ফলাফল জীবনের সমস্যা উত্তরণে কাজে লাগানোর দক্ষতা।

৬. সৃজনশীল চিন্তন দক্ষতা: কোন পরিস্থিতি বা বিষয়ে নিজস্ব মতামত প্রদান ও নতুন ধারণা সৃষ্টির সামর্থ্য। কর্ম সম্পাদনের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের সক্ষমতা।

৭. সমস্যা-সমাধান দক্ষতা: সমস্যার উৎস চিহ্নিত করা এবং এর প্রকৃতি ও মাত্রা অনুধাবন করার ক্ষমতা । সহজ এবং গঠনমূলকভাবে সমস্যা সমাধানের সামর্থ্য।

৮. সিদ্ধান্ত গ্রহণ দক্ষতা: যথাযথভাবে কোন পরিস্থিতি অনুধাবনের দক্ষতা। বিষয় সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষমতা।

৯. চাপ মোকাবেলার দক্ষতা: মানসিক চাপের উৎস, প্রকৃতি ও মাত্রা সনাক্ত করার দক্ষতা। চাপের তীব্রতা হ্রাস করার সামর্থ্য।

১০.আবেগ সামলানোর দক্ষতা: অনুভুতির উপর যুক্তিকে প্রাধান্য দেবার ক্ষমতা। মানসিক অবস্থাকে যুক্তি দিয়ে বিচার করে সহজ ও ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছানোর সামর্থ্য।

Leave a Comment