এইচএসসি বিএম ২০২১ সালের ব্যবসায় সংগঠন ১ম পত্র ৭ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট উত্তর | HSC BM 2021 Business Organization 1st Paper 7th Week Assignment Answer


এইচএসসি বিএম ২০২১ সালের ব্যবসায় সংগঠন ১ম পত্র ৭ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট উত্তর | HSC BM 2021 Business Organization 1st Paper 7th Week Assignment answer


বাংলাদেশে যৌথ মূলধনী ব্যবসায় এক মালিকানা বা অংশীদারী ব্যবসায় অপেক্ষা অধিক উন্নত কারণসহ ব্যাখ্যা কর যৌথ মূলধণী ব্যবসায়ের ধারনাঃ


কোম্পানি আইনের আওতায় কিছুসংখ্যক মানুষ স্বেচ্ছায় একত্রিত হয়ে যৌথভাবে পুঁজি সরবরাহ করে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে কোন ব্যবসায় বা শিল্প - কারখানা স্থাপন করলেই তাকে যৌথ মূলধনী ব্যবসায় বুঝায় ।

যৌথ মূলধনী কোম্পানির অনুমােদিত পুঁজি বা মূলধনকে কতকগুলাে সমান অংশে ভাগ করা হয় এবং প্রত্যেক অংশকে এক একটি শেয়ার বলা হয় ।

বিচারপতি জন মার্শাল বলেন , “ কোম্পানি হলাে এমন একটি কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা যা অদৃশ্য ও অস্পৃশ্য অথচ আইনের মধ্যে টিকে থাকে । ”

অধ্যাপক লতিফুর রহমান এর মতে , “ কতিপয় ব্যক্তি যৌথভাবে মূলধন সরবরাহ করে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে কোম্পানি আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রিত ও কৃত্রিম সত্তাবিশিষ্ট যে শিল্প বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন করে তাকে কোম্পানি বলে । "


বাংলাদেশের ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২.১ ( ঘ ) ধারা মতে , “ কোম্পানি হলাে কোম্পানি আইনানুযায়ী গঠিত ও নিবন্ধিত অথবা চালু কোন কোম্পানি ।

উপরিউক্ত সংজ্ঞার ভিত্তিতে বলা যায় , মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে কতিপয় মানুষ স্বেচ্ছায় পুঁজি বিনিয়ােগে যে ব্যবসায় গঠন করে , তাকে যৌথ মূলধনী ব্যবসা বলে । যৌথ মূলধনী ব্যবসা সাধারণত বড় ধরনের ব্যবসা হয়ে থাকে । 

এক মালিকানা ব্যবসায়ের ধারনাঃ

এক ব্যক্তির মালিকানায় গঠিত , পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কেই একক মালিকানা ব্যবসায় বলে । একক মালিকানা ব্যবসায়ে মালিক নিজেই পুঁজি সরবরাহ করে । তিনিই ব্যবসায়ের সংগঠক এবং পরিচালক । একক মালিকানা ব্যবসায়ের মালিকই সব ঝুঁকি গ্রহণ করেন এবং তিনি ব্যবসায়ের সমুদয় মুনাফা ভােগ করেন । তবে
প্রয়ােজনবােধে মালিক নিজ পরিবারের সদস্যদের বা কোন লোককে বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করতে পারেন । নিচে এক মালিকানা ব্যবসায় সম্বন্ধে ব্যবসায় বিশেষজ্ঞদের কতিপয় পূর্ণ সংজ্ঞা দেয়া হলাে ।

• অধ্যাপক বি , ও , হুইলার - এর মতে , “ একক মালিকানা ব্যবসায় হলাে এমন এক প্রকার ব্যবসায় সংগঠন যার মালিক ও নিয়ন্ত্রক মাত্র এক ব্যক্তি ।

★অধ্যাপক রিচার্ড এম , ইউগেটস বলেন , “ একক মালিকানা ব্যবসায় এমন এক ধরনের ব্যবসায় যার মালিক ও নিয়ন্ত্রক একজন মাত্র ব্যক্তি । "
★ অধ্যাপক ডেভিটসন - এর মতে , “ একক মালিকানা ব্যবসায়ের মালিক সৰ কুঁকি বহন করে নিজে মুনাফা ভােগের জন্য ব্যবসায় পরিচালনা করে । ”

একক মালিকানা ব্যবসায়ের পূর্বোক্ত সংজ্ঞা ও আলােচনা প্রেক্ষিতে পরিশেষে বলা যায় , আইনগত অস্তিত্বহীন যে ব্যবসায় এক ব্যক্তির উদ্যোগ , জ্ঞান , বুদ্ধি , পুঁজি ও ঝুঁকি সমন্বয়ে এককভাবে অর্জিত মুনাফাভােগের জন্য গঠিত ,
পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় তাকে একক মালিকানা ব্যবসায় বলে । এটি প্রাচীনতম ব্যবসায় সংগঠন ।


অংশীদারী ব্যবসায়ের ধারনাঃ
সাধারণত আমরা বলতে পারি যে , মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে দুই বা ততােধিক প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ ব্যক্তি স্বেচ্ছায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে যে ব্যবসায় পরিচালনা করে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে । ১৯৩২ সালে ভারতীয় অংশীদারি ব্যবসায় আইনের ৪ ধারায় প্রদত্ত অংশীদারি ব্যবসায়ের
সংজ্ঞা হলাে “ সকলের দ্বারা বা সকলের পক্ষে যেকোন একজনের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসায়ের মুনাফা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করে নেওয়ার সম্মত কতিপয় ব্যক্তির মধ্যে বিরাজমান সম্পর্কই অংশীদারি ব্যবসায় । নিচে বিভিন্ন লেখকের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা দেওয়া হলােঃ
• অধ্যাপক মিত্র ও বসু বলেন , " দুই বা ততােধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের জন্য নিজেদের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যে ব্যবসায় গঠন করে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে ।
* অধ্যাপক আজন - এর মতে , “ মুনাফা অর্জন ও বণ্টনের উদ্দেশ্যে দুই বা ততােধিক ব্যক্তি চুক্তিবদ্ধ হয়ে যে ব্যবসায় সংগঠিত করে তােলে তাকেই অংশীদারি ব্যবসায় বলে । ”


উপরোক্ত সংজ্ঞাগুলো থেকে বুঝা যায় যে , অংশীদারি ব্যবসার সাধারণভাবে মুনাফা অর্জনের জন্য দুই বা ততােধিক ব্যক্তি দ্বারা গঠিত এবং প্রত্যেকের পুঁজি , মেধা ও শ্রমের দ্বারা গঠিত ।


যৌথ মূলধনী ব্যবসায় এক মালিকানা বা অংশীদারী ব্যবসায়ের উপেক্ষা উন্নত এর যৌক্তিকতা নিম্নরূপঃ


যৌথ মূলধনী কোম্পানি অন্যান্য ব্যবসায় সংগঠন হতে কিছু বিশেষ সুবিধা ভােগ করে । বৃহদায়তন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠনের ক্ষেত্রে যৌথ মূলধনী কোম্পানির বিকল্প নেই ।
১. স্থায়িত্ব: যৌথ মূলধনী কোম্পানি পৃথক কৃত্রিম
ব্যক্তিসত্তার অধিকারী । এরূপ ব্যক্তিসত্তা থেকে চিরন্তন অস্তিত্ব লাভে স্বীকৃতি দিয়েছে । কোন সদস্য ইচ্ছা করলে যে কোন সময় এরূপ ব্যবসায় ভেঙে দিতে পারে না ।
২. বৃহদায়তন ব্যবসায় সংগঠন : বৃহদায়তন ব্যবসায় গঠনের একটি সহায়ক সংগঠন হলাে যৌথ মূলধনী কোম্পানি । ব্যবসায়ী মন যেকোন ব্যক্তি দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই ব্যবসায়
গঠন করতে পারে ।
৩ , পর্যাপ্ত মূলধন গঠন : যৌথ মূলধনী কোম্পানি বিশেষ করে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে বিবরণীপত্র প্রচার করে শেয়ার বিক্রয় করে মূলধন গঠন করা যায় যা দেশের ব্যবসায় সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক ।
৪. বৃহদায়তন ব্যবসায়ের সুবিধা : যৌথ মূলধনী কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে কতকগুলাে ব্যবসায়িক সুবিধা ; যেমন অধিক ক্রয় - বিক্রয়ের সুবিধা , ব্যয় সংকোচ অর্জন , আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা , বিজ্ঞাপন ইত্যাদি ভােগ করা যায় ।
৫. মূলধন ও দক্ষতার সমাবেশঃ বৃহদায়তন ব্যবসায় সংগঠন হিসেবে যৌথ মূলধনী কোম্পানিতে পর্যাপ্ত মূলধন ও অধিক
দক্ষতার সমাবেশ ঘটানাে যায় যা বৃহদায়তন ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পাদনের সহায়ক ।
৬. বিনিয়ােগকারীদের সুবিধা : যৌথ মূলধনী মেম্পানির মূলধনকে কতকগুলো শোরে ভাগ করা হয় । এই শেয়ারগুলাের আঙ্কিক মূল্য কম ধার্য করা হয় । এতে সমাজের ধী - দরিদ্র সকল জনগণ শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে বিনিয়োেগ সুবিধা
ভােগ করে ।
৭. সীমাবদ্ধ দায়: যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ে সদস্যদের দায় তাদের ক্রয়কৃত শেয়ারের আঙ্কিক মূল্য দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে । কাজেই কোম্পানির লােকসান হলে সদস্যদের অতিরিক্ত দায় বহন করতে হয় না ।
৮. গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা : এই সংগঠনের ব্যবস্থাপনা গণতান্ত্রিক নীতি মেনে চলে । শেয়ার হােল্ডারদের প্রত্যক্ষ ভােটে পরিচালকমণ্ডলী নির্বাচিত হন মতে যােগ্য ব্যক্তি পরিচালনার দায়িত্ব পান ।
৯. শেয়ার হস্তান্তরযোগ্যতাঃ পাবলিক লিমিটেড
কোম্পানির শেয়ার অবাধে হস্তান্তর করা যায় । এর যেকোন শেয়ার হােল্ডার প্রয়ােজনে তার ক্রয়কৃত শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে মালিকানা হত্তান্তর করতে পারাে ।
১০. জনসাধারণের আস্থাঃ যৌথ মূলধনী কোম্পানি আইনের দ্বারা সৃষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান । এরূপ প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন স্বার্থসংশিষ্ট পক্ষের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য আইনগত বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে । তাই এর প্রতি জনসাধারণের আস্থা
অধিক ।
১১. ঝুঁকি বণ্টনের সুবিধাঃ অন্যান্য ব্যবসায়ের ন্যায় এখানে মালিকের দায় অসীম নয় । এক্ষেত্রে সীমিত পায় হলেও তা বহুসংখ্যক সদস্যদের মধ্যে একটি নিয়ম অনুযায়ী বণ্টিত হয় । ফলে একা কেউ সব দায় বহন করে না ।
১২. আইনগত সত্তাঃ এই সংগঠনের আইনগত কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা রয়েছে । এটি নিজস্ব সীলমােহরের মাধ্যমে পরিচিত ও পরিচালিত । ফলে যেকোন তৃতীয় পক্ষ এর সাথে আইনানুগ চুক্তি সম্পাদন করতে পারে ।
১৩. গবেষণা ও উদ্ভাবনঃ যৌথ মূলধনী কোম্পানি বৃহদায়তন ব্যবসায় সংগঠন বিধায় সহজেই পর্যাপ্ত পুঁজিতে সংস্থান করা যায় । এতে পৃথক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নতুন পণ্য উদ্ভাবন সম্ভব হয় ।
১৪. দক্ষ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনাঃ যৌথ মূলধনী
কোম্পানির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার কাজ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত দক্ষ ও অভিজ্ঞ পরিচালকমণ্ডলীর ওপর ন্যস্ত করা হয় । নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালকমণ্ডলীর পরিবর্তন হয় বিধায় দক্ষ ব্যক্তি পরিচালনার দায়িত্ব পান ।
১৫. সম্প্রসারণের সুযােগঃ এই সংগঠনের শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয় করে সহজেই মূলধন বৃদ্ধি করা যায় । তাছাড়া পরিচালনায় দক্ষ লােক থাকায় সংগঠন সহজেই সম্প্রসারণ করা যায় ।

Leave a Comment