এইচএসসি বিএম মার্কেটিং নীতি ও প্রয়োগ ২য় পত্র ৭ম সপ্তাহের এসাইনমেন্ট উত্তর | HSC BM Marketing 2nd Paper 8th Week Assignment Answer
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সফলতা অর্জনের জন্য ব্যবসায়ের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ
ব্যবসায়ে অবস্থান এর ধারনাঃ
উত্তর প্রত্যেকটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের আকার-আকৃতি ও কার্যাবলি একরকম নয়। বৃহদায়তনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার কাজ এক স্থানে এবং প্রশাসনিক কাজ অন্যত্র সম্পাদন করে। তবে মাঝারি বা ক্ষুদ্রায়তনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার সকল কার্যাবলি একই স্থানে থেকে সম্পাদন করে থাকে। ব্যবসায়ের অবস্থান বলতে এর গঠন ও পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট স্থানকে বুঝায়।
সাধারণত শহর বা শহরতলীতে তার উপকণ্ঠে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা বহুকাল থেকেই স্থাপিত হয়ে আসছে। নানাবিধ সুযােগ-সুবিধার জন্য শহর এলাকাকে ব্যবসায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাছাড়া এমন কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলাে এদের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যগত কারণে আবশ্যিকভাবেই কেবল শহর এলাকাতে গড়ে ওঠে, যেমন- ছাপাখানা, মােটরগাড়ি ক্রয়-বিক্রয় ও এদের খচুরা যন্ত্রাংশের ব্যবসা, শিল্পপণ্যের ব্যবসা, আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের ব্যবসায়, বিভাগীয় বিপণি, ভােগ্যপণ্যের পাইকারি ব্যবসায়, কার্পেট ও আসবাবপত্রের ব্যবসায়, ব্যাংক ও বীমা ব্যবসায়ের অবস্থানের উপর প্রভাব বিস্তারকারী
উপাদানসমূহ : উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা, মুনাফাযােগ্যতা ও সুনাম অর্জনের জন্য ব্যবসায়ের সঠিক অবস্থান নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। ব্যবসায়ের অবস্থানের উপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ হলাে :
ক. প্রাকৃতিক উপাদান, খ. অর্থনৈতিক উপাদান, গ, রাজনৈতিক উপাদান, ঘ. কার্যগত উপাদান, ঙ. অন্যান্য উপাদান।
ব্যবসায়ের অবস্থানের শ্রেণি বিভাগ এর বর্ণনা
প্রত্যেকটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের আকার-আকৃতি ও কার্যাবলি একরকম নয়। বৃহদায়তনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার কাজ এক স্থানে এবং প্রশাসনিক কাজ অন্যত্র সম্পাদন করে। তবে মাঝারি বা ক্ষুদ্রায়তনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার সকল কার্যাবলি একই স্থানে থেকে সম্পাদন করে থাকে। ব্যবসায়ের অবস্থান বলতে এর গঠন ও পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট স্থানকে বুঝায়। ব্যবসায়ের আকৃতি, আয়তন, উপাদান এবং বৈশিষ্ট্যের আলােকে এর অবস্থানকে নিম্নোক্ত তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়
১. শহুরে অবস্থান : যেসব ব্যবসায় সংগঠন শহর এলাকায় সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে গড়ে ওঠে, তাকে শহুরে অবস্থান বলে।
২. গ্রাম্য অবস্থান : যেসব ব্যবসায় সংগঠন অনেকক্ষেত্রে গ্রামের কোনাে নির্দিষ্ট স্থানে গড়ে ওঠে, ঐ নির্দিষ্ট স্থানকেই গ্রাম্য
অবস্থান বলে।
৩. শহরতলিতে অবস্থান : মাঝে মাঝে সাধারণত আকৃতি অনুযায়ী এমন কিছু ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান আছে, যা শহরতলিতেই গড়ে ওঠে।
ব্যবসায়ের অবস্থানের উপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ :
উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা, মুনাফাযােগ্যতা ও সুনাম
অর্জনের জন্য ব্যবসায়ের সঠিক অবস্থান নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। ব্যবসায়ের অবস্থানের উপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদানসমূহ হলাে :
ক. প্রাকৃতিক উপাদান, খ. অর্থনৈতিক উপাদান, গ. রাজনৈতিক উপাদান, ঘ. কার্যগত উপাদান, ঙ. অন্যান্য উপাদান।
ব্যবসায়ের অবস্থানের উপর প্রাকৃতিক উপাদান ও অর্থনৈতিক উপাদানের প্রভাব : নিম্নে ব্যবসায়ের অবস্থানের উপর প্রাকৃতিক উপাদান ও অর্থনৈতিক উপাদানের প্রভাব আলােচনা করা হলাে--
প্রাকৃতিক উপাদান : ব্যবসায়ের অবস্থানের উপর প্রভাব বিস্তারকারী প্রাকৃতিক উপাদানগুলাে হচ্ছে
১. জলবায়ু ও ভূমি : ব্যবসায়ের অবস্থানের উপর জলবায়ু ও ভূমি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। যেমন : আঁশ জাতীয় শিল্পের জন্য আর্দ্র জলবায়ু এবং আটা, ময়দা ও চিনি শিল্পের জন্য শুষ্ক জলবায়ু বিশেষভাবে উপযােগী।
২. কাঁচামাল : ব্যবসায়ের অবস্থানের জন্য কাঁচামাল অপরিহার্য। কাঁচামাল ব্যবহার করে চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদন করা হয়। তাই কাচামালের প্রাপ্যতা ব্যবসায় অবস্থানের উপরে প্রভাব বিস্তার করে।
৩. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি শক্তি : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি শক্তি ছাড়া ব্যবসায়ের অবস্থান অসম্ভব।
৪. পানির প্রাপ্যতা : অনেক ব্যবসায় অবস্থানের জন্য প্রচুর বিশুদ্ধ পানির প্রয়ােজন হয়। যেমন : ইউরিয়া সার কারখানার জন্য এবং খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য পানি অপরিহার্য।
৫. নদী পথে যাত ভের সুবিধা : কাঁচামাল আনয়ন ও উৎপাদিত পণ্য বিভিন্ন স্থানে প্রেরণের জন্য নদী পথের প্রভাব গুরত্বপূর্ণ। এছাড়া এতে ব্যয়ও কম হয়।
অর্থনৈতিক উপাদান : ব্যবসায়ের অবস্থানের উপর প্রভাব বিস্তারকারী অর্থনৈতিক উপাদানগুলাে হচ্ছে
১. শ্রমিকের সহজলভ্যতা : শ্রমিক ছাড়া ব্যবসায় অবস্থানে উৎপাদন ও অন্যান্য কার্যক্রম অসম্ভব। দূরবর্তী এলাকা থেকে আনা নেয়া বেশ ব্যয়বহুল, সময় সাপেক্ষ ও ঝামেলাপূর্ণ। তাই যেখানে দক্ষ, আধা দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক সুলভে পাওয়া
যায় সেখানে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে।
২. পরিবহন ও যােগাযােগ ব্যবস্থা : কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণের সরবরাহ বা প্রাপ্তি, শ্রমিক-কর্মার যাতায়ত, উৎপাদিত পণ্য প্রেরণের জন্য নদী, সড়ক ও রেলপথে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এবং টেলিফোন, ইন্টারনেট, মেইলের সাহায্যে
বিভিন্ন পক্ষের সাথে যােগাযােগ ব্যবস্থা সম্বলিত স্থানে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে।
৩. বাজারের নৈকট্য : কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের জন্য বাজারের সন্নিকটে ব্যবসায়ের অবস্থান সুনিশ্চিত হলে খরচ, সময় ও শ্রম অনেক কমে যায়।
৪. মেরামতের সুবিধা : কোনাে যন্ত্রপাতি নষ্ট বা অকেজো হয়ে পড়লে, সময়মতাে মেরামত করতে না পারলে উৎপাদন বিলম্বিত হতে পারে এবং শ্রমিক কর্মীও সাময়িক অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।
৪. মেরামতের সুবিধা : কোনাে যন্ত্রপাতি নষ্ট বা অকেজো হয়ে পড়লে, সময়মতাে মেরামত করতে না পারলে উৎপাদন | বিলম্বিত হতে পারে এবং শ্রমিক কর্মীও সাময়িক অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।
৫. সম্প্রসারণের সুবিধা : প্রয়ােজনে অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি সাজিয়ে ব্যবসায় সম্প্রসারণের দরকার হতে পারে। এজন্য | ব্যবসায়ের অবস্থান এমন হতে হবে যাতে সম্প্রসারণের সুযােগ থাকে ।
৬. অর্থ সংস্থানের সুবিধা : ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য অর্থসংস্থানকারী প্রতিষ্ঠানের সুবিধা সম্বলিত স্থানে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের অবস্থান নির্ধারণের গুরুত্ব আলােচনা
ব্যবসায়ের অবস্থানের গুরুত্ব : ব্যবসায়ের অবস্থানের উপর প্রতিষ্ঠানের সাফল্য বহুলাংশে নির্ভরশীল। ব্যবসায়কে সারা বিশ্বের উপযােগী করে অবস্থান দেয়া হয় যাতে গুণগত মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করে ভােক্তার কাঙ্ক্ষিত সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। তাই ব্যবসায়ের অবস্থানকে বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ব্যবসায়ের অবস্থানের গুরুত্ব নিম্নরূপ :
১. ব্যবসায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে : প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করে থাকে। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য ব্যবসায়ের সঠিক অবস্থান নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।
উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও উৎপাদন বৃদ্ধি : ব্যবসায়ের সঠিক অবস্থান নির্বাচনের ফলে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও উৎপাদন বৃদ্ধি। পায়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সঠিক স্থানে ব্যবসায়ের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. বাজারজাতকরণ সহজীকরণ : অধিক মাত্রায় পণ্য উৎপাদন করে বিস্তৃত বাজার সৃষ্টি উপযুক্ত ব্যবসায় অবস্থানের উপর নির্ভরশীল। এতে দেশে বিদেশে শাখা অফিস স্থাপন করে বাজারজাতকরণ কার্যক্রমকে সহজতর করা যায়।
৪. প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা : বর্তমানে ব্যবসায়ের সকল স্তরে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, অল্পসময়ে অধিক উৎপাদন ও সহজতর যােগাযােগ রক্ষা করা যায়। কিন্তু সব স্থানে প্রযুক্তি সহজলভ্য নয়। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযােগ রয়েছে এমন স্থানে ব্যবসায়ের অবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়ােজন।
৫. উৎপাদন ব্যয় হ্রাস : সঠিক স্থানে ব্যবসায়ের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারলে কাঁচামাল সংগ্রহের ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি, | যাতায়ত খরচ, যন্ত্রপাতি মেরামত ব্যয় প্রভৃতি হ্রাস পায় বলে উৎপাদন ব্যয় কমে যায়।
৬. প্রতিযােগিত মােকাবেলা : ব্যবসায়ে প্রতিযােগিতা অনেকটা চিরন্তন প্রকৃতির। এ প্রতিযােগিতা মােকাবেলার জন্য ব্যবসায়ের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৭. সরকারি সুযােগ-সুবিধা ভােগ : অনেক সময় নতুন ব্যবসায় অবস্থানের ক্ষেত্রে সরকার বিশেষ সুবিধা প্রদান করে থাকে। যেমন: পাঁচ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা পাওয়া গেলে ব্যবসায়কে আরাে সুন্দর অবস্থানে নেয়া যায়। এজন্য সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সঠিক অবস্থানের দিকে মনােযােগ দিতে হবে।
৮. প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ স্থায়িত্ব : উপযুক্ত অবস্থানে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হলে অব্যাহত উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে সকল পর্যায়ের।

Leave a Comment