৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসাইনমেন্ট (১৫তম সপ্তাহ) | Assignment for 6th to 9th Class students (15th week)

মাধ্যমিক ৬ষ্ঠ শ্রেনীর কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা ১৫তম সপ্তাহের  এসাইনমেন্ট উত্তর ২০২১ | Secondary class 6 work and life oriented 15th week assignment answer 2021


মানুষ কোন কাজ সম্পন্ন করতে যে শারীরিক বা মানসিক শক্তি দিয়ে থাকে তাকে শ্রম বলে। সাধারনত শ্রম দুই ধরনের, যথাঃ মানসিক ও শারীরিক শ্রম। পৃথিবীতে জীবন যাপন করতে হলে সব মানুষকে কম-বেশি শারীরিক ও মানসিক শ্রম করতে হয়। প্রত্যেক মানুষই তাদের নিজ নিজ কর্ম ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক শ্রম দিয়ে থাকে।


মানসিক শ্রমঃ

মস্তিষ্ককে কাজে লাগিয়ে মানুষ তার মেধা মনন দিয়ে যে শ্রম দেয় ,তাই মানসিক শ্রম। মানুষের জীবনে মানসিক শ্রম অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক শ্রম ব্যতীত মানুষের মানসিক বিকাশ সম্ভব নয়। কথায় বলে, '' অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা'' । শ্রমবিমুখ ব্যক্তির মনে কখনো ভালো চিন্তার উদয় হয় না। পক্ষান্তরে পরিশ্রমী ব্যক্তির মন সবসময় সতেজ হয়ে থাকে। বৈজ্ঞানিক ,সাহিত্যিক, দার্শনিক, চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ ও শিল্পীর পরিশ্রম মূলত  মানসিক শ্রম। 


শারীরিক বা কায়িক শ্রমঃ

মানুষ তার শারীরিক শক্তি দিয়ে কোন কাজে যে শ্রম দেয় তাই শারীরিক শ্রম। জীবনে বেঁচে থাকার জন্য মানসিক ও শারীরিক দুইপ্রকার সমান গুরুত্ব দিতে হবে। মানসিক শ্রম মূলক কাজের প্রেরণা যোগায় আর শারীরিক শ্রম সামাধান করতে সাহায্য করে। সৃষ্টিকর্তা আমাদের শারীরিক কাজকর্ম করার জন্য বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করেছেন । এসব ব্যাবহার করে যে শ্রম দেওয়া হয়, তাই শারীরিক শ্রম।


আমার পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন যে সকল কায়িক শ্রম ও মানসিক শ্রম করে থাকেন সেগুলোর তালিকা নিচে উপস্থাপন করা হলোঃ-

কায়িক শ্রমমানসিক শ্রম
  • সকল সদস্যের সকালে শারীরিক ব্যায়াম
  • মায়ের রান্না করা
  • দাদির ফুল বাগানে পানি দেওয়া
  • বাবার নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করা
  • আমার পড়াশোনা
  • বোনের পড়াশোনা
  • আমার গল্পের বই পড়া
  • মায়ের শিক্ষকতা
  • বাবার ব্যাংকে চাকুরী
  • দাদার পত্রিকা পড়া

শ্রমিক মানুষকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায়। শ্রম ব্যতীত পৃথিবীতে কোন জাতির উন্নতি লাভ করতে পারে না। পৃথিবীর যে জাতি যত বেশি পরিশ্রমী, সে জাতি তত বেশি উন্নত ও সম্পদশালী। যে কোনো শ্রমেরই মূল্য আছে। যার জীবনে শ্রমের যন্ত্রণা নেই, তার কিছুই আশা করা উচিত নয় । একমাত্র কঠোর পরিশ্রমী মানুষকে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছাতে পারে। কায়িক ও মানসিক শ্রম এর মধ্যে আমার কাছে কায়িক শ্রমটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। কারণ প্রবাদে আছে , '' স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল '' । শরীর ভালো না থাকলে কোন কাজে মন বসে না। পৃথিবীতে সবকিছু অর্থহীন মনে হয় শরীর ভালো না থাকলে । আর এই শরীর ভালো রাখতে হলে শুধু শুয়ে-বসে খেলে হবে না। কিছু পরিশ্রম করতে হবে। আমরা প্রতিদিন যত বেশি হাঁটাচলা করবো ততই আমাদের শরীর সুস্থ এবং স্বাভাবিক থাকবে। তাই সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করার জন্য নিয়মিত কায়িক শ্রম করতে হবে এবং কায়িক শ্রমের গুরুত্ব সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে। কায়িক শ্রম মানে শারীরিক শ্রম। আমরা কাজ করতে শারীরিকভাবে যে শ্রম দিয়ে থাকি তাকে কায়িকশ্রম বলে। আমাদের সমাজে কায়িক শ্রমের কোন মূল্যায়ন নেই। সবাই তাদের সমাজে নিচু স্তরের মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করে। অথচ তাদের পরিশ্রমের ফলে ধনীরা সুখের জীবনযাপন করছে। আমরা যারা মানসিক শ্রমের শ্রমিক তারা কায়িক শ্রমের শ্রমিকদের অবদানেই বেঁচে আছি । তাই তাদের শ্রমকে অবমূল্যায়ন করার উপায় নেই । এজন্য আমাদের শ্রমের মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং অন্যকে সচেতন করতে হবে।

Leave a Comment